‘কার্যকলাপ নিষিদ্ধ’ ঘোষণার পরেও থামছে না শেখ হাসিনার দল। বাংলাদেশজুড়ে ফের সংগঠিত হওয়ার মরিয়া চেষ্টা শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। অন্তর্বর্তী সরকারের কড়া অবস্থান সত্ত্বেও বিভিন্ন জেলায় হঠাৎ মিছিল, বন্ধ দফতর খুলে দেওয়া, ব্যানার টাঙানো—সব মিলিয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজনৈতিক পরিস্থিতি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপি প্রধান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই মাঠে ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছিল ক্ষমতাচ্যুত শিবির। সেই ইঙ্গিতই এখন রূপ নিচ্ছে সরাসরি রাস্তায় নামার কর্মসূচিতে।
শুক্রবার বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর চট্টগ্রাম-এ আচমকা ঝটিকা মিছিল ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। কোতোয়ালি থানার রাইফেল ক্লাব সংলগ্ন এলাকায় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের কর্মীরা মিছিল বার করলে দ্রুত অভিযান চালায় পুলিশ। আট জনকে গ্রেফতার করা হয়, বাজেয়াপ্ত করা হয় একটি ব্যানার। নিষিদ্ধ সংগঠনের নামে জমায়েতের অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে।
এদিকে শুধু মিছিলেই থেমে নেই কর্মসূচি। বন্ধ থাকা দলীয় কার্যালয় একে একে খুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। ময়মনসিংহ জেলার তারকান্দায় হাসিনা-অনুগামীরা একটি তালাবদ্ধ অফিস খুলতেই গভীর রাতে সেটিতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। অভিযোগের তীর জামায়াতে ইসলামী এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি-র কর্মীদের দিকে। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময়ও একই দফতরে হামলার নজির রয়েছে।
অন্যদিকে রাজবাড়ী জেলায় পাশাং উপজেলায় নতুন করে খোলা হয়েছে আরেকটি কার্যালয়। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো জানিয়েছে, প্রাক্তন রেলমন্ত্রী ও প্রবীণ নেতা জিল্লুর হাকিম-এর পুত্র মিতুলের উদ্যোগেই এই পদক্ষেপ। অফিসের সামনে টাঙানো ব্যানারে দেখা গিয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা এবং সজীব ওয়াজেদ জয়-এর ছবি।
নিষেধাজ্ঞার আবহে আওয়ামী লীগের এই সক্রিয়তা স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—রাজনৈতিক লড়াই শেষ হয়নি। বরং নতুন সরকার গঠনের পরেই শুরু হয়েছে পুনর্গঠনের পাল্টা পর্ব। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।


