বাংলাদেশের ময়মনসিংহে সংখ্যালঘু হিন্দু যুবক দীপুচন্দ্র দাসের নৃশংস হত্যার ঘটনায় উত্তাল দেশ-বিদেশ। রবিবার সন্ধ্যায় সেই ঘটনার প্রতিবাদে এবং নিহত যুবকের আত্মার সদগতি কামনায় উত্তর ২৪ পরগনার আমডাঙ্গার কাছে গাদামারা শ্মশানে প্রার্থনা সভার আয়োজন করলেন বিভিন্ন আখড়ার সন্ন্যাসীরা।
পঞ্চনামি শ্রী জুনা আখড়া এবং শ্রী পঞ্চায়েতি আখড়া মহানির্বাণীর উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রার্থনা সভায় উপস্থিত ছিলেন শতাধিক সন্ন্যাসী। সন্ধ্যার পর থেকেই গাদামারা শ্মশানে একের পর এক আখড়ার সন্ন্যাসীদের সমাগম ঘটে। প্রদীপ জ্বালিয়ে ও মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে দীপু দাসের আত্মার শান্তি ও মুক্তি কামনা করা হয়।
প্রার্থনায় অংশ নেন জুনা আখড়ার শ্রী শ্রী স্বামী রঞ্জিতানন্দ গিরি মহারাজ, স্বামী শুদ্ধগুণাত্মানন্দ মহারাজ এবং শ্রী পঞ্চায়েতি আখড়া মহানির্বাণীর মহামণ্ডল ঈশ্বর স্বামী পরমাত্মানন্দ ভৈরব মহারাজ। সভা শেষে সন্ন্যাসীরা একযোগে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
স্বামী পরমাত্মানন্দ মহারাজ বলেন, “বাংলাদেশে অরাজকতা সীমা ছাড়িয়েছে। সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর একের পর এক হামলার ঘটনা উদ্বেগজনক। দীপু দাসকে যেভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।”
তিনি জানান, এই ঘটনার বিষয়ে ভারতের বিদেশমন্ত্রকের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, যাতে বাংলাদেশ সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করে দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশের কিছু সংবাদমাধ্যমে ঘটনার ‘মিথ্যা উপস্থাপনা’ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।
স্বামী পরমাত্মানন্দ মহারাজ আরও বলেন, “বাংলাদেশে হিন্দুদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। ভারত যেন এই পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখে এবং বাংলাদেশ প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখে, সেই দাবি জানানো হয়েছে। খুব শীঘ্রই আমরা ঢাকায় বাংলাদেশ হাইকমিশনেও গিয়ে স্মারকলিপি জমা দেব।”
প্রার্থনা সভা শেষে সন্ন্যাসীরা একযোগে শান্তি, ন্যায়বিচার এবং সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার দাবি জানান।


