দৃষ্টিহীনদের মহিলা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুরন্ত জয় তুলে নিয়ে স্বপ্নের ফাইনালে পৌঁছে গেল ভারতীয় মহিলা দল। গ্রুপ পর্বের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়াকে একতরফা ম্যাচে পরাজিত করে semifinals-এ নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব আরও একবার প্রমাণ করল ভারতের মেয়েরা। ব্যাটিং-বোলিং—দুটি বিভাগেই আধিপত্য ছিল ভারতের হাতে।
ম্যাচ শুরুর পর থেকেই ভারতীয় ব্যাটাররা আক্রমণাত্মক মানসিকতায় খেলতে শুরু করেন। ইনিংসের মেরুদণ্ড হয়ে ওঠেন দলের তারকা ব্যাটার বাসন্তী হাঁসদা। তিনি মাঠে নামার পর থেকেই ম্যাচের গতি পাল্টে দিতে শুরু করেন। নিখুঁত টাইমিং, দৃষ্টিহীন ক্রিকেটের উপযোগী শট নির্বাচন এবং ঝোড়ো রান তোলার দক্ষতা—সব মিলিয়ে বাসন্তীর ব্যাট থেকে আসে ইনিংসের সিংহভাগ রান। তাঁর ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করেই ভারত গড়ে তোলে চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ।
অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের বিরুদ্ধে শুরু থেকেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে বাসন্তীর কন্ট্রোল ও টেম্পোর সামনে তাঁরা লড়াই করতে পারছেন না। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সাহসী শট খেলে ভারতীয় ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যান তিনি। শেষ পর্যন্ত তাঁর সেই অসাধারণ ব্যাটিংয়ের জন্যই বাসন্তী হাঁসদাকে ম্যাচের সেরা (Player of the Match) নির্বাচিত করা হয়।
রান ডিফেন্ড করতে নেমে ভারতীয় বোলাররা প্রতিপক্ষকে একেবারেই কোনও জায়গা করে দেননি। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা একের পর এক ভুল শট খেলতে বাধ্য হন। ভারতীয় দলের ডিসিপ্লিনড বোলিং, সঠিক লাইন-লেন্থ এবং ধারাবাহিক উইকেট তুলে নেওয়ার ফলে ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসও ভারতের দখলে চলে যায়।
অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইন-আপ চাপের মুখে ভেঙে পড়লে ভারতের জয় সময়ের অপেক্ষা হয়ে দাঁড়ায়। শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানে ম্যাচ জিতে ফাইনালে জায়গা পোক্ত করে ব্লাইন্ড টিম ইন্ডিয়ার মেয়েরা।
এখন সব নজর জমে ফাইনালে, যেখানে ইতিহাস গড়ার হাতছানি দিচ্ছে। দল যেমন দুরন্ত ছন্দে রয়েছে, তেমনই বাসন্তী হাঁসদার অসামান্য ফর্ম সমর্থকদের আরও আশাবাদী করে তুলেছে। দৃষ্টিহীনদের ক্রিকেটে ভারতের মেয়েরা এবার নতুন অধ্যায়ের সামনে—এবার লক্ষ্য একটাই, বিশ্বকাপ ট্রফি ঘরে তোলা।


