দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) ফর্ম পূরণের নামে টাকার লেনদেন ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, শহরের বাসন্তী ময়দান এলাকায় বিজেপি পার্টি অফিসে টাকা নিয়ে বাংলাদেশ থেকে আসা ব্যক্তিদের জন্য নাগরিকত্বের ফর্ম পূরণ করা হচ্ছিল। কালিপুজোর পর থেকেই এই কাজ চলছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রতিদিন প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন মানুষ ওই অফিসে ভিড় করছেন। কাকদ্বীপ স্টেশনের পাশে বসবাসকারী লক্ষীকান্ত দাস নামে এক বাংলাদেশি নাগরিক জানান, “আমি ১২ বছর আগে বাংলাদেশ থেকে এসেছি। আমার আধার কার্ড, রেশন কার্ড, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট আছে, কিন্তু ভোটার কার্ড নেই। তাই ওই বিজেপি অফিসে গিয়েছিলাম। ওরা ৩৬০ টাকা নিয়ে বলেছে, হিন্দু কার্ড করে দেবে।”

বাসন্তী ময়দানের ওই অফিসে গিয়ে দেখা যায়, ঘরের সামনে বিজেপি নেতা দীপঙ্কর জানার ছবি টাঙানো। ভিতরে এক মহিলা কম্পিউটারে বসে প্রতি জনের কাছ থেকে ৬০ টাকা নিচ্ছেন অনলাইনে CAA ফর্ম পূরণের জন্য। পাশের ঘরে আরেকজন মহিলা ভারত সেবা সংঘের প্যাডে কাগজপত্র তৈরি করে দিচ্ছেন বাংলাদেশ থেকে আসা আবেদনকারীদের। সেখানে ভারত সেবাশ্রম সংঘের রাবার স্ট্যাম্পও দেখা গেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, এক একজনের কাছ থেকে ৪০০ টাকারও বেশি নেওয়া হচ্ছে। আবেদনকারীদের মধ্যে প্রবীর দাস, সন্ধ্যা দাস ও অনুপমা দাস নামে কয়েকজন জানান, বিজেপির স্থানীয় কিছু কর্মী তাদের বলেছেন যে, এখানে ফর্ম পূরণ করলে ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়া যাবে। এই আশায় তাঁরা টাকা জমা দিয়েছেন।

অন্যদিকে, কাকদ্বীপের বিজেপি নেতা সঞ্জয় দাসের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “সারা দেশে CAA ফর্ম পূরণ চলছে, এতে কোনও অসুবিধা নেই।” তবে এই ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কোনও অনুমতি বা সরকারি নির্দেশ ছিল না। প্রশাসনের এক কর্তা জানান, অভিযোগ জানার পরই তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
এরপর প্রশাসনের তরফে তৎক্ষণাৎ নির্দেশ জারি করে ওই পার্টি অফিসে ফর্ম পূরণের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, টাকার বিনিময়ে নাগরিকত্ব ফর্ম পূরণের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে শুরু হয়েছে বিস্তারিত তদন্ত।

স্থানীয়দের একাংশের মতে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সংবেদনশীল আইনকে ঘিরে আর্থিক দুর্নীতির চেষ্টা চলছে। বিজেপির পক্ষ থেকে অবশ্য দাবি করা হয়েছে, কিছু অসাধু ব্যক্তি দলের নাম ভাঙিয়ে এই ধরনের কাজ করছে। প্রশাসন নজরদারি শুরু করেছে যাতে কোনওভাবেই সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা না যায় এবং আইনকে কাজে লাগিয়ে কেউ অবৈধ উপার্জন না করতে পারে।


