অজিত পওয়ারের আচমকা মৃত্যুতে গভীর অনিশ্চয়তায় ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি। আঞ্চলিক রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠাতা বা তাঁর স্পষ্ট উত্তরাধিকারী না থাকলে দলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা যে কঠিন—ভারতীয় রাজনীতির ইতিহাস বারবার তা প্রমাণ করেছে। অজিতের মৃত্যুর পর সেই পুরনো প্রশ্নই নতুন করে সামনে এসেছে: এনসিপি কি এই ধাক্কা সামলাতে পারবে?
মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত অজিত ছিলেন রাজনীতির মধ্যমণি। কাকা শরদ পওয়ারের ছায়া থেকে বেরিয়ে স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয় গড়ে তুলছিলেন তিনি। কিন্তু বড় সমস্যা—নিজের উত্তরসূরি হিসেবে কাউকে সামনে আনেননি। সেই শূন্যতা এখন ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। কারণ শুধু দল চালানো নয়, সরকারে প্রতিনিধিত্ব, উপমুখ্যমন্ত্রীর কুরসি এবং অজিতের হাতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকগুলিও নতুন করে বণ্টন করতে হবে।
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—‘দাদা’র জায়গায় বসবেন কে?
এই দৌড়ে প্রাথমিকভাবে এগিয়ে অজিতের স্ত্রী সুনেত্রা পওয়ার। স্বামীর প্রয়াণের পর সহমর্মিতাই তাঁর বড় পুঁজি। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, আপাতত দল ভাঙন ঠেকাতে পওয়ার পরিবারের কারও হাতেই নেতৃত্ব থাকা দরকার। তবে বাস্তবতা হল, রাজনীতিতে সুনেত্রা এখনও শিক্ষানবিশ। ২০২৪ লোকসভায় ননদ সুপ্রিয়া সূলের বিরুদ্ধে লড়ে হেরেছিলেন। পরে রাজ্যসভায় এলেও অভিজ্ঞতা সীমিত। দল ও সরকার—দু’দিক সামলানো তাঁর পক্ষে সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রবল।
অজিতের বড় ছেলে পার্থ পওয়ারও আলোচনায়। ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে লড়াই করে পরাজয়ের পর রাজনীতি থেকে অনেকটাই দূরে ছিলেন তিনি। সাম্প্রতিক কেলেঙ্কারিতে নাম জড়ানোয় তাঁর গ্রহণযোগ্যতাও প্রশ্নের মুখে। ছোট ছেলে জয় পওয়ারের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা—রাজনীতিতে সক্রিয়তার অভাব।
পরিবারের বাইরে তাকালে দু’জন অভিজ্ঞ নেতার নাম উঠে আসছে। প্রফুল্ল প্যাটেল—দিল্লি ও মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে পরিচিত মুখ, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। অজিতের অনুপস্থিতিতে সংগঠন সামলানোর অভিজ্ঞতা তাঁর রয়েছে। তবে তৃণমূল স্তরে জনপ্রিয়তা কম। আর এক সম্ভাব্য মুখ সুনীল ততকারে—বর্ষীয়ান হলেও জনভিত্তি অজিতের মতো শক্ত নয়।
এই টানাপোড়েনে এনসিপির কাছে সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় আবারও শরদ পওয়ারই হতে পারেন। অস্তিত্ব রক্ষার তাগিদে যদি দল ফের মারাঠা রাজনীতির এই প্রবীণ স্তম্ভের দিকেই ফিরে যায়, তা হলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। এনসিপির ভবিষ্যৎ এখন একটাই প্রশ্নে আটকে—উত্তরাধিকারীর শূন্যতা কি তারা সময়মতো পূরণ করতে পারবে?


