লালকেল্লার সামনে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, আদালতের নজরদারিতে তদন্তের দাবিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার সকালেই ফরিদাবাদ থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার হওয়ার সংবাদ পাওয়া গেছে। ঘটনাটির মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সন্ধ্যায় দিল্লির লালকেল্লার সামনে ঘটে যায় এক ভয়াবহ বিস্ফোরণ, যা দ্রুত রাজধানীর অলক্ষ্য পরিস্থিতি তৈরি করে। বিস্ফোরণে বহু হতাহত — অনেকের মৃতু্য ও বহু আহতের খবর পাওয়া গেছে; মৃতদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, বিকেল আড়াই-চারটার দিকে একটি অজ্ঞাত পরিচয়ের গাড়ি সুনহেরি মসজিদের পার্কিং লটে প্রবেশ করে এবং প্রায় তিন ঘণ্টা সেখানে দাঁড়িয়ে ছিল। পরে গাড়িটি পার্কিং ছাড়িয়ে মেট্রো স্টেশনের সামনেই এসে নিষ্প্রাণ অবস্থায় বিস্ফোরিত হয়। তদন্তকারীরা বলছেন, গাড়ি ছাড়ার সময় সেটিতে কেবল একজনই ছিলেন।
ঘটনাস্থল ও দেহের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে এনএসজি ও এফএসএল দল প্রাথমিকভাবে অনুমান করেছেন যে বিস্ফোরণে আইইডি বা অনুরূপ উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক ব্যবহার হতে পারে; তবে চূড়ান্ত রায় তাদের ফরেনসিক রিপোর্টের ওপর নির্ভর করবে। পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাগুলো দ্রুত হই-হই করে কাজ শুরু করেছে এবং শতাধিক সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলে এবং জনমনে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যর্থতা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনার যে গুরুত্ব এবং উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন — তিনি আদালতের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি (সিট) গঠন করে দ্রুত সত্য উদঘাটনের আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ফরিদাবাদ থেকে বিস্ফোরক উদ্ধার এবং দিল্লির কেন্দ্রস্থলে এই বিস্ফোরণের মধ্যকার সময়োত্তরকে নজিরবিহীন ভাবেই দেখা উচিত।
এদিকে তদন্তে জঙ্গি সংগঠনের যে কোনও সম্ভাব্য সম্পৃক্ততার দিকটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে; নিরাপত্তা গোয়েন্দারা জইশ-ই-মহম্মদসহ কয়েকটি সংগঠনের সম্ভাব্য হদিশ অনুসন্ধান করছেন। সরকারী পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কোনো গ্রুপের দায় স্বীকার বা স্পষ্ট নির্দেশনা পাওয়া যায়নি; তাই তদন্তকারীরা সব সম্ভাব্য দিক খুলেই রেখেছেন।
আহতদের দ্রুত চিকিৎসা এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কর্তৃপক্ষের প্রধান অগ্রাধিকার। সাধারণ শহরবাসীর জন্য আধिकारिक তত্ত্বাবধানে থাকা তথ্যই গ্রহণ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে এবং পঠন-পর্যালোচনার জন্য প্রয়োজনীয় সব গোয়েন্দা সহযোগিতা নিয়ে কাজ চলমান আছে।


