বিহারে এনডিএ জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দাবি করেছিলেন যে ওই জয় নাকি বাংলায় বিজেপির পথ খুলে দেবে। কিন্তু বাংলার রাজনৈতিক বাস্তবতা একেবারেই অন্য কথা বলছে। এই রাজ্যে এখনও সবচেয়ে বড় নাম, সবচেয়ে বড় ভরসা—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, লড়াকু চরিত্র এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে একনিষ্ঠ যোগসূত্র তাঁকে বাংলার মাটিতে অপ্রতিদ্বন্দ্বী করে রেখেছে। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি মানুষের পাশে থেকে যে জনপ্রিয়তা তৈরি করেছেন, তা কোনও অন্য দল বা নেতার পক্ষে ভাঙা সহজ নয়।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি মহিলাদের সমর্থন বাংলার রাজনীতিতে বড় ভূমিকা রাখে। কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা স্বাস্থ্য সাথী—এই প্রকল্পগুলো বাংলার অগণিত পরিবারের জীবনে পরিবর্তন এনেছে। তাই মহিলারা জানেন, দিদি থাকলে তাঁদের সুরক্ষা, সম্মান এবং স্বনির্ভরতার পথ শক্ত থাকে। বিজেপির প্রচারে যতই চেষ্টার ত্রুটি না থাকুক, এই সমর্থন সহজে বদলানো সম্ভব নয়।
বাংলাকে ‘অসুরক্ষিত’ বলে দেখানোর চেষ্টা চললেও সরকারি তথ্য বলছে উল্টো কথা। এনসিআরবি টানা কয়েক বছর ধরে কলকাতাকে দেশের অন্যতম নিরাপদ শহর হিসেবে চিহ্নিত করেছে। বহু আলোচিত ঘটনার তদন্তেও সামনে এসেছে যে বেশ কিছু অভিযোগ অতিরঞ্জিত বা ভুল তথ্যের ওপর দাঁড়িয়ে ছিল। বাস্তবে বাংলার আইনশৃঙ্খলা দিদির প্রশাসনের হাতেই সুদৃঢ়।
অর্থনীতির ক্ষেত্রে বাংলাও গত কয়েক বছরে উন্নতির পথেই চলছে। বিনিয়োগ বাড়ছে, আইটি-তে কলকাতা নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে, উৎপাদন ও শিল্প ক্ষেত্রে স্থির বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের জড়তা কাটিয়ে বাংলা এগোচ্ছে, আর এই অগ্রগতির ধারাকে ধরে রেখেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই।
সবচেয়ে বড় বিষয়, দিদি বাঙালির সাংস্কৃতিক পরিচিতিকে সম্মান করেন এবং রক্ষা করেন। বাঙালির ভাষা, উৎসব, খাবার, ভাবনা—এসবের ওপর আস্থা ও গর্বই বাংলার আত্মা। কোনও বাইরের চাপ বা একরৈখিক সাংস্কৃতিক চিন্তা এই বৈচিত্র্যময় বাংলার সঙ্গে মেলে না। তাই বাংলার মানুষ জানেন, তাঁদের পরিচয় ও আত্মসম্মানের লড়াইয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই তাঁদের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব করেন।
বিজেপি যতই বড় বড় দাবি তুলুক, বাংলার মানুষ বারবার প্রমাণ করেছেন—এই রাজ্যের মাটি, মন আর মানসিকতা দিদির দিকেই থাকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু একজন মুখ্যমন্ত্রী নন, বাংলার ভরসা এবং বাংলার আত্মবিশ্বাসের প্রতীক।


