প্রতি বছর বর্ষা এলেই জলে ডুবে যায় ঘাটাল। ঘরবাড়ি, ফসল, রাস্তা—সবই বিপর্যস্ত হয়। বছরের পর বছর ধরে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হিসেবে উঠে আসে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান। ভোট এলেই প্রতিশ্রুতি শোনা যায়, কিন্তু বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। যদিও এবার রাজ্য সরকারের তরফে প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ায় নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।
ডেবরার সভা থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সরাসরি রাজ্য সরকারকে নিশানা করে দাবি করেন, নরেন্দ্র মোদী এই প্রকল্পের জন্য প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিলেন এবং কেন্দ্র ৬০ শতাংশ অর্থ দিতেও রাজি ছিল। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল সরকার এই প্রকল্পকে কার্যত অচল করে দিয়েছে। একইসঙ্গে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, রাজ্যে বিজেপি সরকার এলে মাত্র এক বছরের মধ্যেই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান সম্পূর্ণ করে নিকাশি সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে।
পালটা তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, কেন্দ্রীয় সরকার প্রকল্পের বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কেই অবগত নয়। তিনি বলেন, রাজ্য ইতিমধ্যেই টাকা দিয়ে কাজ শুরু করেছে এবং কেন্দ্র সাহায্য না করলেও রাজ্য নিজস্ব উদ্যোগেই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। “অমিত শাহ কিছুই জানেন না,”—এই মন্তব্যে সরাসরি পালটা দেন অভিষেক।
ঘাটালের বন্যা সমস্যার ইতিহাস দীর্ঘদিনের। শীলাবতী, কংসাবতী ও দ্বারকেশ্বর নদীর শাখা নদীগুলির মিলিত প্রভাবে এই অঞ্চল জলমগ্ন হয়ে পড়ে। একসময় জমিদারি আমলে তৈরি হওয়া বাঁধগুলি বন্যা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করলেও, বর্তমানে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সেগুলি দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে প্রতি বছর বর্ষায় দুর্ভোগ পোহাতে হয় সাধারণ মানুষকে।
এই পরিস্থিতিতে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান শুধুমাত্র একটি প্রকল্প নয়, বরং হাজার হাজার মানুষের বাঁচার লড়াই। কিন্তু রাজনৈতিক তরজার মাঝেই প্রশ্ন উঠছে—বাস্তবে কবে মিলবে স্থায়ী সমাধান?


