ভারতের উপ-রাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড় সোমবার (২১ জুলাই) একেবারে আচমকা ভাবে পদত্যাগ করলেন। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। পদত্যাগপত্রে তিনি লিখেছেন, “চিকিৎসকদের পরামর্শে এবং নিজের স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে আমি অবিলম্বে উপ-রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করছি।”
এই সিদ্ধান্ত ভারতীয় রাজনীতিতে বড়সড় চমক বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। কারণ, সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর দিনেই ধনখড়ের এই পদত্যাগ ঘটে। ফলে সংসদের উচ্চকক্ষে, অর্থাৎ রাজ্যসভায় সভাপতির ভূমিকা আপাতত শূন্য হয়ে গেল।শারীরিক অসুস্থতার কথা ধনখড় নিজে আগে প্রকাশ্যে আনেননি। তাই হঠাৎ করে এই সিদ্ধান্তকে ‘অপ্রত্যাশিত’ বলেই মনে করা হচ্ছে।
পদত্যাগপত্রে তিনি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য এবং সাংসদদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।২০২২ সালে তিনি দেশের ১৪তম উপ-রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন।
তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ার দীর্ঘ ও বৈচিত্র্যময় — আইনজীবী হিসেবে কেরিয়ার শুরু করে, পরে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হয়ে বিজেপি-র গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে ওঠেন তিনি।বর্তমানে এই পদ শূন্য হওয়ায়, নির্বাচন কমিশন খুব শীঘ্রই নতুন উপ-রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিন ঘোষণা করতে পারে। সংবিধান অনুযায়ী, উপ-রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৬ মাসের মধ্যে নতুন নির্বাচন আয়োজনের নিয়ম রয়েছে।
এই পদত্যাগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর বা রাষ্ট্রপতির তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে সাংসদদের একাংশ এই পদক্ষেপকে ‘সাহসী’ এবং ‘সৎ’ সিদ্ধান্ত হিসেবে ব্যাখ্যা করছেন।


