জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণার মাত্র দু’সপ্তাহের মধ্যেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ ছড়াল। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের ইঙ্গিত দিল দেশের প্রধান বিরোধী শক্তি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে সরাসরি আক্রমণ শানান পূর্বতন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে। তাঁর অভিযোগ, জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছিল এবং সেই ঘটনায় অভিযুক্ত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের একের পর এক জামিন দেওয়া হচ্ছে। রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের কার্যালয় খুলে দেওয়ার ঘটনাও উল্লেখ করেন তিনি।
পরওয়ারের বক্তব্য, এসব দফতরে বসে পুনরায় ‘দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড’ পরিচালনার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি দাবি করেন, জামিন পাওয়া একাধিক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে হুমকি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে এবং অবিলম্বে তাঁদের গ্রেফতার করা প্রয়োজন।
উল্লেখযোগ্য, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রয়াত খালেদা জিয়া-র পুত্র তারেক রহমানের দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় জামায়াত শুভেচ্ছা জানিয়েছিল। কিন্তু পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টেছে। শনিবার দলের আমির শফিকুর রহমান সরাসরি নির্বাচনের ফল নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বলেন, “মানুষ আমাকে বলছে, আপনারা ভোটে হারেননি, হারানো হয়েছে।”
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো জানিয়েছে, নির্বাচনের পর গত দু’সপ্তাহে ‘নিষিদ্ধ’ আওয়ামী লীগের এক ডজনের বেশি উপজেলা ও ইউনিয়ন বোর্ড স্তরের কার্যালয়ের তালা খোলা হয়েছে। কোথাও নিয়মিত কর্মী-সমর্থকদের জমায়েত, কোথাও আবার তালা না খুলেই স্লোগান—এমন ঘটনাও সামনে এসেছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এই পরিস্থিতিতে হাসিনা-অনুগামীদের সম্ভাব্য প্রত্যাঘাত নিয়ে জামায়াতের মাঝারি ও নিচুতলার নেতৃত্বের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। সেই চাপই উপরতলার নেতৃত্বের কণ্ঠে আরও কঠোর অবস্থান হিসেবে প্রতিফলিত হচ্ছে। ফলে নির্বাচনের পর যে রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছিল, তা এখন নতুন করে অস্থিরতার দিকে মোড় নিতে পারে বলেই মনে করছেন অনেকে।


