বাংলাদেশের রাজনীতির এক দীর্ঘ ও ঘটনাবহুল অধ্যায়ের অবসান। আর নেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। মঙ্গলবার ভোরে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরেই বয়সজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন এই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ বাংলাদেশ, থমকে গেল উপমহাদেশের রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার উত্থান ছিল নাটকীয়। শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে তিনি দ্রুতই হয়ে ওঠেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রধান মুখ। নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর ১৯৯১ সালে দেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। পরে আরও এক দফা ক্ষমতায় ফিরে ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত দেশ শাসন করেন খালেদা জিয়া।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তাঁর নাম জড়িয়ে রয়েছে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন, তীব্র রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এবং ক্ষমতার লড়াইয়ের সঙ্গে। শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাংলাদেশের রাজনীতিকে দুই মেরুতে ভাগ করে দিয়েছিল। সমর্থকদের কাছে তিনি ছিলেন আপসহীন নেত্রী, আবার বিরোধীদের চোখে ছিলেন বিতর্কিত শাসক—এই দুই বিপরীত পরিচয় নিয়েই ইতিহাসে থেকে গেলেন খালেদা জিয়া।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শারীরিক অসুস্থতা ও আইনি জটিলতার কারণে রাজনীতি থেকে অনেকটাই দূরে ছিলেন তিনি। হাসপাতালে ভর্তি থাকার মধ্যেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বিএনপিতে নেমে এসেছে গভীর শোক। দেশজুড়ে তাঁর সমর্থকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া। রাজনৈতিক মতভেদ ভুলে বিভিন্ন দল ও দেশের নেতারাও জানাচ্ছেন শোকবার্তা। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি যেমন বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে গিয়েছিলেন, তেমনি মৃত্যুর পরেও তাঁর নাম উচ্চারিত হচ্ছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে।


