বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে ঘিরে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। উন্নতির বদলে তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হচ্ছে কি না, তা নিয়েই দিশেহারা দেশবাসী। বিভিন্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, আপাতত তাঁকে বিদেশে নেওয়ার পরিকল্পনা স্থগিত রাখা হয়েছে। চিকিৎসা চলছে ঢাকাতেই, এবং চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ আরও আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।
অশীতিপর এই নেত্রীর ডায়াবেটিস, কিডনি বিকলতা, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস, ফুসফুসজনিত সমস্যা ও চোখের অসুখ—সহ একাধিক জটিলতা রয়েছে। ঢাকার এক নামী হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নজরদারিতে টানা চিকিৎসা চলছে। তাঁদের মতে, কিডনি কাজ না করলে স্থায়ী উন্নতির সম্ভাবনা নেই। কিডনির অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল হওয়ায় প্রতিদিন ডায়ালিসিস দেওয়া হচ্ছে। ফলে তাঁর শারীরিক অবস্থা এখন ‘গুরুতর’ হিসেবেই বিবেচিত।
চিকিৎসকদের দাবি, সামনের কয়েকটি দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এতগুলি জটিলতা একত্রে থাকায় প্রতিটি চিকিৎসা সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নিতে হচ্ছে।
এদিকে, সোমবারও খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নেওয়ার বিষয়ে বিএনপি বা পরিবারের পক্ষ থেকে কোনও নতুন তথ্য পাওয়া যায়নি। এর আগে কাতার এয়ারওয়েজের তরফে তাঁকে লন্ডনে নিয়ে যাওয়ার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় সেই প্রক্রিয়া আপাতত বন্ধ রয়েছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান প্রতিদিনই হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসার তদারকি করছেন বলে জানা গিয়েছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি দেখে রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ—সকলেই আতঙ্কে যে, পরিস্থিতি কোন দিকে এগোচ্ছে।


