দীপাবলির আলোয় যখন চারদিক ঝলমল করছে, ঠিক তখনই মধ্যমগ্রামে নেমে এল অন্ধকার। ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাল এক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। বুধবার দুপুরে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের মেঘদূত বাসস্ট্যান্ডের কাছে।
মৃতার নাম অন্তরা বোস। বয়স মাত্র ১৫। স্থানীয় একটি স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল সে। সামনে মাধ্যমিক পরীক্ষা, মন দিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কিন্তু উৎসবের আগের দিনই শেষ হয়ে গেল তার জীবন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন এক বন্ধুর সঙ্গে স্কুটি করে যাচ্ছিল অন্তরা। যশোর রোডে চলছিল দুটি বেসরকারি এল২৩৮ বাসের রেষারেষি। প্রত্যেকে একে অপরকে পেছনে ফেলতে মরিয়া। সেই সময় এক বাস হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে স্কুটিটিকে পিছন থেকে সজোরে ধাক্কা মারে। মুহূর্তের মধ্যেই রাস্তায় ছিটকে পড়ে অন্তরা। তারপর বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে মৃত্যু। ঘটনাস্থলেই নিথর দেহ।
অন্তরার সঙ্গী গুরুতর জখম অবস্থায় চিকিৎসাধীন বারাসতের এক বেসরকারি হাসপাতালে। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘাতক বাসটিকে ঘিরে বিক্ষোভ শুরু হয়, চলে ব্যাপক ভাঙচুর। ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে শান্ত করার চেষ্টা করে পুলিশ। বহুক্ষণ পর স্বাভাবিক হয় পরিস্থিতি।
অন্তরার মৃত্যুতে স্তব্ধ মধ্যমগ্রাম। উৎসবের আলো নিভে গিয়ে শোকের আবরণে ঢেকে গেল গোটা এলাকা। স্থানীয়দের দাবি, বেপরোয়া বাস চালকদের বিরুদ্ধে যেন কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হয়, যাতে আর কোনও মা-বাবাকে এভাবে সন্তান হারাতে না হয়।


