নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু ও অন্যান্য শহরে ক্রমশ ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে গণবিদ্রোহ। ছাত্র-যুবদের আন্দোলন রাতারাতি হিংসাত্মক হয়ে উঠে। পুলিশ ও সেনার বাধা উপেক্ষা করে বিক্ষোভকারীরা সংসদ ভবন, প্রশাসনিক ভবন, নেতৃবৃন্দের বাসভবনে হামলা চালিয়ে অগ্নিসংযোগ করেন। ইতোমধ্যে ২১ জন প্রাণ হারিয়েছেন, আহত হয়েছেন ৩০০+ জন।
নেপালের সেনাপ্রধান অশোক রাজ সিগদেলের নির্দেশে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলিকে ইস্তফা দিতে বলা হয়েছে। পরিস্থিতির তীব্রতায় ওলির দেশত্যাগের সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। নেপালি সংবাদমাধ্যমের দাবি, ইতিমধ্যে তিনি হেলিকপ্টারে চড়ে দেশ ছেড়েছেন। উপপ্রধানমন্ত্রী সহ ৯ মন্ত্রী ইস্তফা দিয়েছেন। বিশেষ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখকের বাসভবনে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা।
সরকার গতকাল গভীর রাতে সোশাল মিডিয়ায় নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেও আন্দোলন থামেনি। জনকণ্ঠ প্রতিবাদের শিখা আরও জ্বালিয়েছে। নেপালের প্রেসিডেন্টের বাসভবন দখল ও ভাঙচুর করা হয়েছে বিদ্রোহীদের দ্বারা।
ভারতের বিদেশমন্ত্রক নেপালে থাকা ভারতীয়দের সতর্ক থাকার নির্দেশনা জারি করেছে। পাশাপাশি, পরিস্থিতির প্রতি গভীর নজর রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা ও আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়েছে।
নেপালে এই অস্থির অবস্থা বর্তমানে শ্রীলঙ্কা (২০২২) ও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গণবিক্ষোভের মতো ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে এগোচ্ছে। পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনকভাবে সামনে এগোচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা।


