বিদ্যার আর স্বাধীনতার দিন—একসঙ্গে সরস্বতী পুজো ও নেতাজির জন্মদিনে আবেগে ভাসছে বাংলা

Spread the love

কলকাতা | বিশেষ প্রতিবেদন

আজকের দিনটি বাঙালির কাছে শুধুই একটি তারিখ নয়—এ এক আবেগ, এক ঐতিহ্য, এক ইতিহাস। একদিকে বিদ্যার দেবী মা সরস্বতীর আরাধনা, অন্যদিকে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অগ্নিপুরুষ নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মদিন—দুই মিলিয়ে আজ বাংলা যেন উৎসব আর গৌরবের যুগলবন্দিতে মুখর।

রাজ্যজুড়ে আজ সকাল থেকেই দেখা যাচ্ছে সরস্বতী পুজোর রোশনাই। স্কুল, কলেজ, পাড়ার ক্লাব থেকে শুরু করে ঘরে ঘরে বিদ্যার দেবীর আরাধনা। হলুদ শাড়ি, বাসন্তী সাজ, বই-খাতায় অঞ্জলি—ছাত্রছাত্রীদের চোখে মুখে উৎসবের হাসি। ‘বিদ্যাদেবী’র কাছে প্রার্থনা—জ্ঞান, বুদ্ধি আর শুভবুদ্ধির।

ঠিক একই দিনে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হচ্ছে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে। ২৩ জানুয়ারি—পরাক্রম দিবস। কলকাতা-সহ রাজ্যের নানা প্রান্তে নেতাজির মূর্তিতে মাল্যদান, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ‘তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব’—এই ডাক আজও বাঙালির রক্তে আগুন জ্বালায়।

ইতিহাসের এক অনন্য সমাপতনে, বিদ্যার প্রতীক সরস্বতী আর স্বাধীনতার প্রতীক নেতাজি—দু’জনেই যেন আজকের দিনে বাঙালির মননে মিলেমিশে একাকার। একদিকে জ্ঞানচর্চা, অন্যদিকে দেশপ্রেম—এই দুই শক্তির মেলবন্ধনেই গড়ে উঠেছে বাঙালির আত্মপরিচয়।

শহরের কলেজ পড়ুয়া থেকে শুরু করে প্রবীণ নাগরিক—সবার কথায় একটাই অনুভূতি, “আজকের দিনটা বাঙালির আত্মার দিন।” সোশ্যাল মিডিয়াতেও এই যুগল আবেগের প্রতিফলন—সরস্বতী বন্দনা আর নেতাজির উক্তিতে ভরে উঠেছে টাইমলাইন।

আজ সত্যিই বাংলা ফিরে তাকায় নিজের শিকড়ে—যেখানে জ্ঞান আর সংগ্রাম পাশাপাশি হাঁটে। সরস্বতী পুজো আর নেতাজির জন্মদিন—দুটোই বাঙালির চিরকালের গর্ব, চিরকালের প্রেরণা।


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *