দেশের বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ইউজিসির সদ্য জারি করা ‘ইক্যুইটি রেগুলেশন’ কার্যকর হওয়ার আগেই থমকে গেল। জাতিভিত্তিক বৈষম্যের সংজ্ঞা ঘিরে তীব্র বিতর্কের মধ্যেই নতুন বিধিতে স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়ে দিল, আপাতত ২০১২ সালের ইউজিসি ইক্যুইটি রেগুলেশনই বহাল থাকবে।
নতুন বিধিতে ‘কাস্ট-বেসড ডিসক্রিমিনেশন’ বলতে শুধুমাত্র তফসিলি জাতি, উপজাতি ও ওবিসিদের বিরুদ্ধে হওয়া বৈষম্যকেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। ফলে সাধারণ শ্রেণিভুক্ত পড়ুয়া ও শিক্ষকরা কার্যত সংজ্ঞার বাইরে থেকে যাচ্ছেন—এই অভিযোগ ঘিরেই শুরু হয় প্রবল বিরোধিতা। একই সঙ্গে প্রতিটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘সুযোগ-সাম্য কেন্দ্র’ গঠনের নির্দেশ, যা পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ে কাজ করবে, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
এই নিয়ম কার্যকর হতেই জেনারেল কাস্টের পড়ুয়াদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ে। বিষয়টি গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে। শুনানিতে ইউজিসির বিজ্ঞপ্তি নিয়ে কড়া অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত প্রশ্ন তোলে, “স্বাধীনতার ৭৫ বছর পর কি আমরা আবার জাতিগত বিভাজনের দিকে এগোচ্ছি? জাতিহীন সমাজ গঠনের পথে এতদিনে যা অগ্রগতি হয়েছে, তা কি নষ্ট হয়ে যাবে?”
আদালতের স্পষ্ট বার্তা—সমতার নামে এমন কোনও বিধি চলতে পারে না, যা নতুন করে বিভাজনের জন্ম দেয়। সেই কারণেই ইউজিসির নতুন ইক্যুইটি রেগুলেশন আপাতত কার্যকর করা যাবে না বলে জানিয়ে দিল শীর্ষ আদালত।


