ভারতজুড়ে সবুজ আন্দোলনের প্রতীক, “ট্রি ওম্যান অফ ইন্ডিয়া” নামে পরিচিত সেই অকৃত্রিম পরিবেশযোদ্ধা আর নেই। দীর্ঘ জীবনসংগ্রাম, অগাধ মমতা আর গাছেদের প্রতি এক অব্যক্ত প্রেমকে সঙ্গী করে যিনি সারাটা জীবন কাটিয়ে দিয়েছিলেন, সেই বৃক্ষমা আজ চিরনিদ্রায়। দেশের পরিবেশ-চেতনার আকাশে যেন এক বিশাল নক্ষত্র ঝরে পড়ল।
অভাব-অনটনের জীবন থেকে উঠে এসে তিনি বুঝেছিলেন—সন্তান শুধু রক্তের নয়, হতে পারে শিকড়েও। তাই নিজের বুকের ভেতর জমে থাকা একাকিত্বকে আলো করে তুলেছিলেন গাছ লাগানোর আনন্দে। সূর্য-ঝড়-বৃষ্টি পেরিয়ে শত শত গাছকে নিজের সন্তানের মতো আগলে রেখেছিলেন তিনি। পথের ধারে যে সবুজ আজ নিরাপদ ছায়া দেয় মানুষের হাঁটাচলায়, সেই প্রতিটা পাতার ফাঁকেই লুকোনো তার পরিশ্রম আর ভালোবাসার গল্প।
তার মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া ভারতের নানা প্রান্তে। সাধারণ মানুষ থেকে পরিবেশপ্রেমীরা—সবার মুখে একই কথা, এমন নিঃস্বার্থ সবুজরক্ষক আর জন্মাবে কি? তার রেখে যাওয়া গাছগুলো আজ যেন নিঃশব্দে মাথা নত করে দাঁড়িয়ে আছে, ঠিক যেমন সন্তান মাকে শেষবার বিদায় জানায়।
আজ তিনি নেই, কিন্তু তার রোপণ করা প্রতিটি চারা, প্রতিটি ছায়া, প্রতিটি বাতাসের শ্বাস—সবই চিরকাল মনে করিয়ে দেবে, এক জন মানুষও চাইলে কতটা পরিবর্তন এনে দিতে পারে পৃথিবীতে। তার নিঃশব্দ সংগ্রামই হবে আগামী প্রজন্মের পথ দেখানো আলো।


