খাদ্যে ভেজাল ও কৃত্রিম রঙের ব্যবহার রোধে রাজ্যের উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করল Calcutta High Court। সম্প্রতি দায়ের হওয়া এক জনস্বার্থ মামলায় অভিযোগ তোলা হয়েছিল, কাঁচা সবজি থেকে মাছ, মাংস, দুধ, ফল, রাস্তার খাবার ও মিষ্টি—নানান খাদ্যপণ্যে ভেজাল মেশানো হচ্ছে এবং নানা পানীয়তেও ব্যবহার হচ্ছে কৃত্রিম রঙ। এতে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের উপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে বলে আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি Sujay Paul-এর দ্বৈত বেঞ্চে রাজ্যের তরফে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন পেশ করা হয়। সেই প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে আদালত জানায়, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজ্য যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তা সন্তোষজনক। আদালতে জানানো হয়, ২০১৯ সালে খাদ্য নিরাপত্তা সূচকে রাজ্যের স্থান ছিল ১৫তম। বর্তমানে সেই অবস্থান উন্নীত হয়ে দেশের মধ্যে ষষ্ঠ স্থানে পৌঁছেছে।
রাজ্যের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, বিভিন্ন জেলা, পুরসভা ও ব্লক স্তরে মোট ১৭৬ জন খাদ্য নিরাপত্তা আধিকারিক কর্মরত আছেন। এছাড়া জেলাগুলিতে ২৮ জন এবং রাজ্য স্তরে ৩ জন তদন্তকারী আধিকারিক রয়েছেন। প্রতি মাসে নির্দিষ্ট সংখ্যক খাদ্য নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
আদালত নির্দেশ দিয়েছে, স্বাস্থ্য দপ্তরকে এই বিষয়ে আরও সতর্ক ও সক্রিয় থাকতে হবে। খাদ্যের মান ও বিশুদ্ধতা নিয়মিত পরীক্ষা অব্যাহত রাখতে হবে। কোথাও অনিয়ম বা ত্রুটি ধরা পড়লে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে খাদ্য নিরাপত্তা দপ্তরে কোনও পদ শূন্য থাকলে দ্রুত নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে পরীক্ষার কাজ ব্যাহত না হয়।
রাজ্যের দাবি, আধুনিক পরিকাঠামো ও প্রযুক্তির সহায়তায় বর্তমানে ৩০টি চলমান পরীক্ষাগারের মাধ্যমে খাদ্যের মান যাচাই করা হচ্ছে। নতুন একটি জীবাণুবিজ্ঞান পরীক্ষাগার চালু হয়েছে এবং আরও তিনটি স্থায়ী পরীক্ষাগার গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। সবদিক বিবেচনা করে জনস্বার্থ মামলার নিষ্পত্তি করেছে উচ্চ আদালত।


