ভোটের মুখে আমলা টানাটানি! কেন্দ্রীয় অবজার্ভার নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে নবান্ন

Spread the love

পাঁচ রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের এক সিদ্ধান্তে পশ্চিমবঙ্গ প্রশাসনে তীব্র অস্বস্তি। রাজ্যের একাধিক শীর্ষ আইএএস ও আইপিএস আধিকারিককে কেন্দ্রীয় অবজার্ভার হিসেবে নিয়োগের নির্দেশ ঘিরে প্রকাশ্য সংঘাতে জড়িয়েছে নবান্ন ও নির্বাচন কমিশন। রাজ্য সরকারের স্পষ্ট দাবি—ভোটের প্রস্তুতির সবচেয়ে সংবেদনশীল সময়ে এই সিদ্ধান্ত কার্যত প্রশাসনিক কাঠামোয় ধাক্কা।
নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ-সহ অসম, কেরল, তামিলনাড়ু ও পুদুচেরির বিধানসভা নির্বাচনে মোট ২৫ জন আধিকারিককে কেন্দ্রীয় অবজার্ভারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তালিকায় রয়েছেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশ প্রসাদ মীনা-সহ ১৫ জন আইএএস ও ১০ জন আইপিএস আধিকারিক। নির্দেশ মতো, খুব শীঘ্রই তাঁদের দিল্লিতে কমিশনের প্রশিক্ষণে যোগ দেওয়ার কথা।
এই নিয়োগের বিরোধিতা করে আগেই নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত আপত্তি জানিয়েছে রাজ্য সরকার। নবান্নের যুক্তি, আইনশৃঙ্খলা, ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা শীর্ষ আধিকারিকদের একযোগে বাইরে পাঠানো হলে রাজ্যের প্রশাসনিক ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। সেই কারণেই অন্তত ১৭ জন আধিকারিককে এই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে এবং বিকল্প নামও প্রস্তাব করা হয়েছে।
তবে কমিশনের বক্তব্য ভিন্ন। তাদের দাবি, বারবার রাজ্যের কাছে আধিকারিকদের নাম চাওয়া হলেও কোনও নির্দিষ্ট তালিকা পাওয়া যায়নি। ফলে কমিশন নিজস্ব বিবেচনায় নাম চূড়ান্ত করেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটমুখী রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিবকে কেন্দ্রীয় অবজার্ভারের তালিকায় রাখা নজিরবিহীন এবং তা স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলছে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা ও সময়োপযোগিতা নিয়ে।
সব মিলিয়ে ভোটের প্রস্তুতির মধ্যেই কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন সংঘাতরেখা। নির্ধারিত ডেডলাইনের আগে এই আমলা-টানাপোড়েনের মীমাংসা হয় কিনা, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের।


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *