খসড়া ভোটার তালিকার আগে ধাক্কা! ৫৮ লাখ নাম উধাও, বয়স-তথ্যের অদ্ভুত অসঙ্গতিতে উত্তাল রাজ্য

Spread the love

রাজ্যে ভোটার এনুমারেশন পর্ব শেষ হতেই সামনে এসেছে বিস্ময়কর তথ্যের পাহাড়। খসড়া তালিকা প্রকাশের আগে কমিশনের অভ্যন্তরীণ রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, রাজ্যের ভোটার তালিকা থেকে উধাও হয়ে গিয়েছেন ৫৮ লক্ষেরও বেশি মানুষ। শুক্রবার কমিশন সূত্রে প্রকাশিত সংখ্যায় মৃত, নিখোঁজ, স্থানান্তরিত—সব মিলিয়ে নাম বাদ যাওয়ার হার আগের তুলনায় অনেক বেশি।

তথ্য অনুযায়ী, মৃত ভোটারের সংখ্যা ২৪ লক্ষের বেশি ধরা হয়েছে। নিখোঁজ হিসেবে চিহ্নিত প্রায় ১২ লক্ষ ভোটার। স্থানান্তরের তালিকাতেও রয়েছে প্রায় ২০ লক্ষ নাম। নথিভুক্ত হয়েছেন মাত্র সামান্য কয়েকজন। কিন্তু যা সবচেয়ে বেশি আলোড়ন তুলেছে, তা হল বয়স-সংক্রান্ত অদ্ভুত অসঙ্গতি। দেখা যাচ্ছে, প্রায় ১২ লক্ষ ভোটারের তথ্য অনুযায়ী তারা ১৫ বছরের কম বয়সেই বাবা হয়েছেন। সন্তানের সঙ্গে মা-বাবার বয়সের ফারাক ৫০ বছরের বেশি এমন ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৯ লক্ষ। দাদু-দিদিমার বয়সের হিসেবেও মিলছে না ৩ লক্ষের বেশি ভোটারের তথ্য।

সব মিলিয়ে প্রায় ১ কোটি ৭০ লক্ষ তথ্যেই রয়েছে বিভ্রান্তি। রাজ্যের প্রায় ৩০ লক্ষ ভোটারের এখনও সঠিক ম্যাপিংই হয়নি। ফলে শুনানির নোটিস পেতে পারেন প্রায় ২ কোটি ভোটার। কমিশন সূত্রের মতে, এত বড় প্রক্রিয়ায় কিছু ভুল হওয়াই স্বাভাবিক, শুনানির সময়ে সেগুলি যাচাই করে সংশোধন করা হবে।

১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত হবে খসড়া তালিকা। তার আগে এমন বিস্তর তথ্যভ্রান্তি সামনে আসতেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপি দাবি করছে, তাদের বহুদিনের অভিযোগ—রাজ্যে লক্ষাধিক ভুয়ো ভোটার ছিল—এবার সত্য প্রমাণিত হচ্ছে। গেরুয়া শিবিরের মতে, ভুল তথ্য দিয়ে তালিকায় ঢুকে পড়া রোহিঙ্গা-সহ বহু বিদেশির নাম এবার উঠে আসবে।

অন্যদিকে তৃণমূল বলছে, এত কম সময়ে এসআইআর চালানোর ফলেই তৈরি হয়েছে এই গরমিল। কমিশন যে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে, সেটাই আরও বেশি ভুল ফল দিয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুরু থেকেই দ্রুতগতির এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে আসছেন। সংসদেও এই নিয়ে তৃণমূল সরব হয়েছে। নতুন তথ্য প্রকাশের পর তৃণমূলের অভিযোগের সুর আরও তীব্র হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে খসড়া তালিকা প্রকাশের আগে ভোটার তালিকা ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে।


Spread the love

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *