এনসিআরবি (National Crime Records Bureau) এর ২০২৩ সালের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পুনরায় দেশের নিরাপদতম শহরের খেতাব জিতল কলকাতা। টানা চারবার এই সম্মান অর্জন করায় তিলোত্তমা শহরটি দেশের অন্যান্য বড় শহরের তুলনায় সুরক্ষা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে শীর্ষে রয়েছে।
শহরের পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের মতে, এই সাফল্যের মূল কারণ হল আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, দ্রুত পদক্ষেপ এবং নাগরিকদের সচেতন অংশগ্রহণ। কলকাতার বিভিন্ন থানায় সিসিটিভি নজরদারি, দ্রুত ফোন হেল্পলাইন এবং স্বেচ্ছাসেবী নিরাপত্তা উদ্যোগগুলো শহরকে অপরাধ প্রবণতার থেকে দূরে রেখেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু পুলিশি উদ্যোগই নয়, কলকাতার নাগরিকরাও নিরাপত্তা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। স্থানীয় কমিউনিটি ওয়াচ, সতর্কতা প্রচারণা এবং সচেতনতা কর্মসূচি শহরের নিরাপত্তার মান বাড়াতে সহায়তা করেছে।
কেন্দ্রের রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, অন্যান্য বড় শহর যেমন মুম্বাই, বেঙ্গালুরু ও হায়দরাবাদেও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে উন্নতি হয়েছে, কিন্তু কলকাতা টানা চারবার শীর্ষে থাকায় এটি দেশের নিরাপদ শহর হিসেবে সুপরিচিত।
পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, “নিরাপত্তা শুধু পুলিশ বা প্রশাসনের দায়িত্ব নয়। শহরের মানুষদের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সামাজিক সচেতনতা আমাদের এই অর্জনে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছে। আমরা চেষ্টা করব এই মান বজায় রাখতে এবং আরও উন্নত করতে।”
এদিকে নাগরিকরাও সন্তুষ্টি প্রকাশ করছেন। তাঁদের মতে, রাতে শহরে হেঁটে চলাচলও এখন আগের তুলনায় অনেক নিরাপদ, আর বিভিন্ন পাবলিক স্থানে পুলিশের উপস্থিতি মানুষকে স্বস্তি দিচ্ছে।
নাগরিক এবং প্রশাসনের যৌথ প্রচেষ্টা কলকাতাকে দেশজুড়ে নিরাপত্তার দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। টানা চারবার এই স্বীকৃতি প্রমাণ করে যে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, জনসাধারণের সচেতনতা ও সহযোগিতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।


