পশ্চিমবঙ্গে আইনশৃঙ্খলার সম্পূর্ণ ভাঙন নিয়ে রাজ্য সরকারকে একহাত নিলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্যে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যে হিন্দু ধর্মীয় অনুষ্ঠান হলেই পুলিশ যেন শাসক দলের হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে, অথচ মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় দিনের পর দিন যে ভয়াবহ তাণ্ডব চলছে, সেখানে প্রশাসন কার্যত চোখ বুজে বসে আছে। তাঁর দাবি, জাতীয় সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করা হচ্ছে, সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের উপর হামলা চালানো হচ্ছে, এমনকি পুলিশের উপরও আক্রমণ হচ্ছে—তবুও পরিস্থিতি সামাল দিতে বড় আকারে পুলিশ বাহিনী নামানো হচ্ছে না।
দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, বেলডাঙা এখন কার্যত আতঙ্কের জনপদ। মানুষ ভয়ে ওই এলাকা দিয়ে যাতায়াত বন্ধ করে দিয়েছে। অথচ রাজ্য সরকার নির্লজ্জ নীরবতা পালন করছে। কেন এখনও সেখানে পর্যাপ্ত পুলিশ বা কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়নি—এই প্রশ্ন তুলে তিনি সরাসরি নবান্নের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, এই নিষ্ক্রিয়তা কোনও দুর্ঘটনা নয়, বরং এর পিছনে বড় কোনও রাজনৈতিক পরিকল্পনা বা প্রশাসনিক যোগসাজশ লুকিয়ে থাকতে পারে।
বিজেপি নেতার কটাক্ষ, রাজ্যে আইনের শাসন বলে কিছু অবশিষ্ট নেই। কোথাও শাসক দলের স্বার্থে পুলিশ লাঠিচার্জ করে, আবার কোথাও ভয়ংকর অরাজকতা চললেও প্রশাসন নীরব দর্শকের ভূমিকা নেয়। তাঁর দাবি, অবিলম্বে বেলডাঙায় কড়া ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও বিস্ফোরক হয়ে উঠতে পারে, যার দায় সম্পূর্ণভাবে রাজ্য সরকারেরই।
এই বিস্ফোরক মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র ঝড় উঠেছে। শাসক দলের নীরবতাই বিরোধীদের অভিযোগকে আরও জোরালো করছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত। বেলডাঙার ঘটনা শুধু একটি এলাকার সমস্যা নয়, বরং গোটা পশ্চিমবঙ্গে আইনশৃঙ্খলার বাস্তব চিত্রকেই সামনে এনে দিয়েছে।


