জঙ্গলমহলের আদিবাসী ভোটব্যাঙ্ক ঘিরে রাজনৈতিক লড়াই এখন চরমে। রবিবার একের পর এক জনসভা করে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুরে প্রচার চালান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দিনশেষে ঝাড়গ্রামে এক ঝালমুড়ির দোকানে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে সেই ঝালমুড়ি খাওয়ার মুহূর্ত ঘিরেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
স্থানীয় দোকানি বিক্রম সাউয়ের কাছ থেকে ঝালমুড়ি কিনে নিজে খান মোদি, পাশাপাশি উপস্থিত মানুষদেরও খাওয়ান। আচমকা প্রধানমন্ত্রীর এই উপস্থিতিতে ভিড় জমে যায় এলাকায়। এই ঘটনাকে শাসকদল নিছক সৌজন্য নয়, বরং নির্বাচনী কৌশল হিসেবেই দেখছে। তাদের অভিযোগ, শুধুমাত্র ঝালমুড়ি খেয়ে আদিবাসীদের পাশে থাকার বার্তা দেওয়া যায় না—এটি ভোটের আগে আবেগ তৈরির চেষ্টা।
এই পরিস্থিতিতেই পালটা কর্মসূচি নিচ্ছে তৃণমূল। প্রথম দফার ভোটের শেষদিনেই ঝাড়গ্রামে সভা করতে যাচ্ছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। জানা গেছে, পূর্বনির্ধারিত সূচিতে পরিবর্তন এনে তিনি সরাসরি জঙ্গলমহলে সভা করে দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে প্রচার জোরদার করবেন।
অন্যদিকে, ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের প্রচার নিয়েও তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। অভিযোগ উঠেছে, ঝাড়গ্রামে তাঁর হেলিকপ্টার নামার অনুমতি দেওয়া হয়নি মোদির কর্মসূচির কারণে। ফলে আদিবাসী এলাকায় তাঁর প্রচার কার্যত আটকে গিয়েছে বলে দাবি বিরোধীদের।
সব মিলিয়ে, একটি সাধারণ ঝালমুড়িকে ঘিরেই এখন জঙ্গলমহলের রাজনীতি উত্তপ্ত—যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপেই স্পষ্ট ভোটের অঙ্ক কষার ইঙ্গিত।


