এতদিন দেশজুড়ে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে দুই সন্তানের নীতির কথাই বেশি শোনা গেছে। কিন্তু এবার ঠিক তার উল্টো পথে হাঁটতে চলেছে অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার। মুখ্যমন্ত্রী এন. চন্দ্রবাবু নাইডু ইঙ্গিত দিয়েছেন, রাজ্যে জন্মহার বাড়াতে তৃতীয় সন্তান নিলে বিশেষ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
প্রস্তাবিত নীতি অনুযায়ী, কোনও দম্পতির তৃতীয় সন্তান জন্মালে রাজ্য সরকার এককালীন ২৫ হাজার টাকা দেবে। শুধু তাই নয়, সেই সন্তানের ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত পড়াশোনার সমস্ত খরচ বহনের কথাও ভাবা হচ্ছে। পাশাপাশি তিন সন্তান নেওয়া দম্পতিদের জন্য বিশেষ ছুটি দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। এছাড়াও কম খরচে কৃত্রিম প্রজননসহ বিভিন্ন চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থাও করা হবে।
ইতিমধ্যেই এই নতুন জনসংখ্যা নীতির খসড়া তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, মার্চ মাসের মধ্যেই খসড়া চূড়ান্ত হবে এবং এপ্রিল থেকেই তা কার্যকর করা হতে পারে। এই প্রকল্পের কথা ঘোষণা করে তিনি বলেন, জন্মের সময়েই এককালীন আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। তাঁর মতে, এই উদ্যোগ রাজ্যের জনসংখ্যা কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
একসময় দেশে জনসংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলিতে কড়াভাবে জন্মনিয়ন্ত্রণের নীতি নেওয়া হয়েছিল। তার ফলও মিলেছে। বর্তমানে দক্ষিণের বেশিরভাগ রাজ্যে জন্মহার জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেক কম। অন্ধ্রপ্রদেশে বর্তমানে মহিলাপিছু প্রসবের হার প্রায় ১.৫, যেখানে ভারতের জাতীয় গড় প্রায় ২.১১।
এই পরিস্থিতিতেই জন্মহার বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন এন. চন্দ্রবাবু নাইডু। তাঁর মতে, অতিরিক্ত জন্মনিয়ন্ত্রণের ফলে জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়া-র মতো দেশে জনসংখ্যার ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। সেখানে মানুষের গড় আয়ু বাড়লেও জন্মহার কমে যাওয়ায় তরুণ জনসংখ্যা কমছে এবং বৃদ্ধ মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে অর্থনীতিতে।


