সংসদে বন্দে মাতরম নিয়ে আলোচনার সময়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের নাম বলতে গিয়ে তাঁকে ‘বঙ্কিমদা’ বলে সম্বোধন করেন। সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় বিতর্ক। তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় আপত্তি তোলেন। পরে প্রধানমন্ত্রী নিজের ভুল বুঝে ভাষণ থামিয়ে সংশোধন করে বলেন— “বঙ্কিমবাবু।” যদিও সংশোধন করা হয়েছে, তবুও সেই ভুল উচ্চারণকে কেন্দ্র করে দিনের রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এই ঘটনার পর বঙ্কিমচন্দ্রের উত্তরসূরী সজল চট্টোপাধ্যায় তীব্র ক্ষোভপ্রকাশ করেছেন। তাঁর কথায়, বঙ্কিমচন্দ্র কেবল একজন সাহিত্যিক নন—ভারতের ইতিহাস, স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং জাতীয় পরিচয়ের স্তম্ভ। অথচ বাংলায় যেখানেই তাকানো যায় সেখানে রবীন্দ্র ভবন, রবীন্দ্র সংস্কৃতি, রবীন্দ্রচর্চা—কিন্তু বঙ্কিমচন্দ্রের জন্য কোথাও কোনও সম্মানজনক প্রতিষ্ঠান নেই। “যা আছে, তা আমাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি”—এই মন্তব্যেই ফুটে উঠেছে তাঁর অভিমান।
তিনি আরও বলেছেন, এতদিন সংসদে বন্দে মাতরম কেবল বাদ্যযন্ত্রে বাজানো হয়েছে। এখন সময় এসেছে, জাতীয় সঙ্গীতের মতোই পুরো গান হিসেবে তা গাওয়া হোক। তাঁর মতে, কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগ ঠিক পথেই এগোচ্ছে, আর সেই জন্য তিনি সরকারকে স্যালুট জানিয়েছেন।
এই বিতর্ক শুধু উচ্চারণের ভুল নিয়ে নয়—এটা সাংস্কৃতিক স্মৃতি, ইতিহাসের মর্যাদা এবং বাঙালির আত্মসম্মানের প্রশ্নে এসে দাঁড়িয়েছে। প্রশ্নটা এখন একটাই—যাকে ভারত “বন্দে মাতরম” দিয়ে স্মরণ করে, তাকে কি বাংলার মাটিতে যথার্থ সম্মান দেওয়া হয়েছে? নাকি আমরা ধীরে ধীরে তাঁকে ভুলে যেতে বসেছি?


