ভোট যত এগোচ্ছে, ততই চড়ছে রাজনৈতিক লড়াইয়ের তাপমাত্রা। সেই আবহে বারাসতের মঞ্চ থেকে সম্পূর্ণ আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বিজেপির বিরুদ্ধে ঝাঁপালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, এই নির্বাচন শুধুমাত্র সরকার গঠনের লড়াই নয়—এটা সত্য বনাম মিথ্যের যুদ্ধ।
মমতা এদিন জনতার সামনে একেবারে অন্য সুরে কথা বলেন। সরাসরি অভিযোগ তোলেন, বছরের পর বছর ধরে প্রতিশ্রুতির নামে মানুষকে ধোঁকা দেওয়া হয়েছে। “যারা বড় বড় স্বপ্ন দেখায়, তারাই শেষ পর্যন্ত মানুষের আশা ভেঙে দেয়”—এই বার্তায় স্পষ্ট বিজেপিকে নিশানা করেন তিনি।
কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকেও রেহাই দেননি। অমিত শাহ-এর নাম না নিয়েই তীব্র কটাক্ষ, “ভোটের সময় বাংলার কথা মনে পড়ে, তারপর আর খোঁজ থাকে না।” তাঁর দাবি, এই রাজনীতি মানুষের উন্নয়নের নয়, শুধুই ক্ষমতা দখলের খেলা।
ভোটার তালিকা ইস্যুতেও বিস্ফোরক মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, ইচ্ছাকৃতভাবে বহু মানুষের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা ভোট দিতে না পারে। “যে দেশের নাগরিক, তার ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার অধিকার কারও নেই”—এই বার্তা দিয়ে তিনি সাধারণ মানুষকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।
এছাড়াও, ইভিএম নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করে মমতা বলেন, গণতন্ত্রকে বাঁচাতে হলে প্রতিটি ভোটের সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। তাঁর কথায়, “মানুষের রায়ই শেষ কথা, সেটাকে বিকৃত করার চেষ্টা হলে রুখে দাঁড়াতে হবে।”
বারাসতের সভা থেকে স্পষ্ট হয়ে গেল—এই লড়াইয়ে মমতা শুধুই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আক্রমণ করছেন না, বরং মানুষের অধিকার ও সম্মানের প্রশ্নকে সামনে এনে সরাসরি জনতার মন ছুঁতে চাইছেন। বাংলার ভোটযুদ্ধ যে আরও তীব্র হতে চলেছে, তার ইঙ্গিত মিলল এই সভাতেই।


