এসআইআর শুনানিকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে বিতর্ক। বহু বছরের বৈধ ভোটার হয়েও নোটিস পেয়ে শুনানি কেন্দ্রে হাজির হতে বাধ্য হচ্ছেন প্রবীণ নাগরিক ও অন্তঃসত্ত্বা মহিলারা। নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কায় শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে তাঁদের। এই পরিস্থিতিকে গণতন্ত্রের পরিপন্থী আখ্যা দিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হল তৃণমূল কংগ্রেস।
রবিবার বিএলএ-২দের সঙ্গে ভারচুয়াল বৈঠকে এসআইআর প্রক্রিয়ার একাধিক অসঙ্গতির কথা তুলে ধরেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে তিনি জানান, শুনানির নামে যেভাবে সাধারণ মানুষের উপর মানসিক ও শারীরিক চাপ তৈরি করা হচ্ছে, তা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব নির্দেশিকা উপেক্ষা করেই বহু প্রবীণ ভোটারকে হাজিরা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে।
শুনানি শুরুর প্রথম দিনেই কলকাতার চেতলা এলাকার একটি কেন্দ্রে ৯০ বছরের এক বৃদ্ধকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। অথচ কমিশনের তরফে আগেই বলা হয়েছিল, ৮৫ বছরের ঊর্ধ্বে প্রবীণদের শুনানিতে ডাকা হবে না। শুধু তাই নয়, এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলাকে প্রসবের দিনেই হাজিরার নোটিস পাঠানো হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যেও।
এই অবস্থায় এসআইআর প্রক্রিয়ায় অবিলম্বে সংশোধনের দাবি জানিয়ে সোমবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল যাবে বলে ঘোষণা করেছেন অভিষেক। দলীয় সূত্রে খবর, মানুষের হয়রানি বন্ধ না হলে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথেও হাঁটতে পারে শাসকদল।


