অভয়া কাণ্ডে ন্যায়বিচারের দাবিতে রাস্তায় নামা এক মায়ের লড়াই এবার পৌঁছে গেল সরাসরি ভোটের ময়দানে। সেই অভয়ার মা-ই আজ বিজেপির প্রার্থী পানিহাটিতে। আর এই সিদ্ধান্ত ঘিরেই তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কে উত্তাল রাজ্য।
ঘটনার শুরুতে ধর্ষণের অভিযোগে সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। পরে আদালতের নির্দেশে তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের হাতে। কিন্তু এতদিনেও মূল অভিযুক্ত ছাড়া আর কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি—এই অভিযোগেই ক্ষোভ জমে উঠেছিল অভয়ার পরিবারে। সেই ক্ষোভ, সেই বঞ্চনার অভিযোগই কি তাঁকে ঠেলে দিল রাজনীতির ময়দানে? প্রশ্নটা এখন জনমনে।
এই আবহেই তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন। তাঁর সাফ বক্তব্য, “এটা সম্পূর্ণ দ্বিচারিতা।” তিনি দাবি করেন, অভয়ার মৃত্যুর প্রতিবাদে তৃণমূলও সমানভাবে সরব ছিল, কিন্তু বিরোধীরা সেই আন্দোলনকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করেছে। তাঁর কথায়, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছিল—যা পরবর্তীতে সিবিআই তদন্তেও সঠিক প্রমাণিত হয়েছে।
এখানেই থেমে থাকেননি কুণাল। তিনি আরও বলেন, যাঁরা একসময় সিবিআই তদন্তের দাবি তুলেছিলেন, তাঁরাই এখন সেই সংস্থার বিরুদ্ধেই প্রশ্ন তুলছেন। কেন্দ্রীয় সংস্থাকে বিজেপির নিয়ন্ত্রণাধীন বলেও কটাক্ষ করেন তিনি। একইসঙ্গে স্মরণ করিয়ে দেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চেয়েও সময় পাননি অভয়ার পরিবার—তবুও আজ সেই বিজেপির প্রার্থী হওয়া “অবাক করার মতো” বলেই মন্তব্য তাঁর।
অন্যদিকে, অভয়ার মায়ের এই রাজনৈতিক পদক্ষেপকে অনেকেই দেখছেন প্রতিবাদের নতুন ভাষা হিসেবে। বিচার না পাওয়ার ক্ষোভই কি তাঁকে এই পথে নামাল, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে বৃহত্তর রাজনৈতিক কৌশল—তা নিয়েই এখন চর্চা তুঙ্গে।
সব মিলিয়ে, অভয়া কাণ্ড আর শুধুমাত্র একটি অপরাধের তদন্তে আটকে নেই। তা এখন রাজনীতির কেন্দ্রে, যেখানে ন্যায়বিচারের প্রশ্ন জড়িয়ে যাচ্ছে ভোটের অঙ্কে। পানিহাটির ময়দান তাই শুধু নির্বাচন নয়, হয়ে উঠেছে এক আবেগ, ক্ষোভ আর রাজনৈতিক লড়াইয়ের প্রতীক।


