সিঙ্গুরের মাটিতে ফের অশান্তির ইঙ্গিত। জমির মালিকদের সম্মতি না নিয়েই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভার জন্য মঞ্চ তৈরি হচ্ছে—এমন গুরুতর অভিযোগ তুললেন সিঙ্গুরের বিধায়ক ও রাজ্যের কৃষি বিপণন মন্ত্রী বেচারাম মান্না। বুধবার সিঙ্গুরে সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি জানান, গোপালনগর মৌজার যে জমিতে প্রধানমন্ত্রীর সভা হওয়ার কথা, সেই জমির মালিকদের অনুমতি নেওয়া হয়নি।
মন্ত্রী জানান, একাধিক জমির মালিক ইতিমধ্যেই বিডিও ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ জানিয়েছেন। প্রশাসনের কাছে আইনানুগ পদক্ষেপের দাবিও উঠেছে। সেই অভিযোগপত্রের প্রতিলিপি সাংবাদিকদের হাতে তুলে দিয়ে বেচারাম মান্নার মন্তব্য, “সিঙ্গুর গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষের মাটি। এখানে সবাই নিয়ম মেনে আসে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে দেশের প্রধানমন্ত্রী সেই নিয়ম মানছেন না।”
এই অভিযোগ ঘিরেই ফের ফিরে এসেছে ২০০৮ সালের স্মৃতি। সেবার ন্যানো কারখানার জন্য জমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়েছিল সিঙ্গুর। জমির অধিকারের দাবিতে পথে নেমেছিলেন কৃষকরা। ১৮ বছর পর আবার সেই একই জমিকে কেন্দ্র করেই বিতর্ক—তবে এবার শিল্প নয়, রাজনীতির মঞ্চ ঘিরে।

আগামী ১৮ জানুয়ারি সিঙ্গুরের ‘টাটার মাঠে’ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনসভা হওয়ার কথা। ওই সভা থেকেই একাধিক রেল প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন তিনি। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, জমির মালিকদের অন্ধকারে রেখেই সভামঞ্চ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। কয়েকজন জমির মালিক বিডিওর কাছে লিখিতভাবে আপত্তিও জানিয়েছেন।
শিল্প বনাম কৃষক—যে লড়াই একসময় সিঙ্গুরকে জাতীয় রাজনীতির মানচিত্রে তুলে এনেছিল, ১৮ বছর পর সেই সিঙ্গুরেই আবার জমি, ক্ষমতা আর রাজনীতির সংঘাত মাথাচাড়া দিচ্ছে।


