হলিউড ও বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ফের নজর কাড়লেন তাঁর অনন্য ফ্যাশন স্টেটমেন্টে। পঞ্চম বার্ষিক গোল্ড গালায় উদ্বোধনী ‘ভ্যানগার্ড অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণ করতে গিয়ে তিনি হাজির হন এক বিশেষ চিকনকারি গাউনে, যা মুহূর্তে ফ্যাশনপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে।
এই ভিন্টেজ সাদা গাউনটি তৈরি করেছেন বিশিষ্ট ডিজাইনার অমিত আগরওয়াল। জানা গিয়েছে, প্রায় দুই দশক পুরনো একটি চিকনকারি শাড়িকে নতুনভাবে রূপ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে এই ভাস্কর্যধর্মী গাউন। পোশাকটির মধ্যে ছিল সূক্ষ্ম হাতের কারুকাজ, দীর্ঘ নাটকীয় ট্রেন এবং সাহসী হাই-লেগ স্লিট, যা প্রিয়াঙ্কার উপস্থিতিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।
প্রিয়াঙ্কার স্টাইলিস্ট আমি প্যাটেল জানান, এই পোশাকের মূল ভাবনা ছিল অতীতের ঐতিহ্যের সঙ্গে বর্তমানের আধুনিকতার মেলবন্ধন। তাঁর কথায়, “নরম সৌন্দর্য আর দৃঢ় গঠনের এক অসাধারণ সংমিশ্রণ এই গাউন। নারীদের হাতে তৈরি সূক্ষ্ম এমব্রয়ডারি প্রিয়াঙ্কার ব্যক্তিত্বে এক অন্য মাত্রা পেয়েছে।”
মাদার্স ডে উপলক্ষে ইনস্টাগ্রামে আবেগঘন পোস্টও করেন অমিত আগরওয়াল। তিনি লেখেন, তাঁর মা বহু বছর ধরে প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার বড় ভক্ত এবং তাঁর প্রতিটি সৃষ্টিতে প্রথম প্রতিক্রিয়া জানান। সেই কারণেই এই বিশেষ সৃষ্টি তিনি মায়ের উদ্দেশে উৎসর্গ করেছেন।
প্রিয়াঙ্কা তাঁর লুক সম্পূর্ণ করেন বিলাসবহুল বুলগারি নেকলেসের মাধ্যমে।
চিকনকারি শিল্পের উৎপত্তি উত্তরপ্রদেশের লখনউ শহরে। সাদা সুতোয় সূক্ষ্ম সূচিশিল্পের জন্য পরিচিত এই ঐতিহ্যবাহী কারুকাজে ব্যবহৃত হয় প্রায় তিরিশ ধরনের সেলাই কৌশল। ইতিহাসবিদদের মতে, মুঘল দরবার ও বিশেষ করে নূরজাহানের পৃষ্ঠপোষকতায় এই শিল্পের প্রসার ঘটে। পরবর্তীতে লখনউয়ের কারিগররা এই শিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করে তোলেন।
একটি চিকনকারি পোশাক তৈরি করতে সময় লাগে দুই সপ্তাহেরও বেশি। ২০০৮ সালে এই শিল্পকে জিআই স্বীকৃতিও দেওয়া হয়, যা ভারতের ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্পের মর্যাদাকে আরও উজ্জ্বল করেছে।


