রবীন্দ্রনাথ মন্ডল (নামখানা). ২৪ পরগনার নামখানার তিন মৎস্যজীবী পাকিস্তানের জেলে আটক থাকার ঘটনায় প্রায় তিন বছর কেটে গেলেও তাঁদের মুক্তি নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাস নাগাদ আরব সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে পাকিস্তানের উপকূলরক্ষী বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন নাদাভাঙা এলাকার বাসিন্দা তপন মহাপাত্র (৫০), কাশীনাথ মণ্ডল (৫৮) ও দিলীপ বাগ (৪৮)। তারপর থেকে তাঁদের সঙ্গে সরাসরি কোনও যোগাযোগ করতে পারেননি পরিবারের সদস্যরা। ফলে চরম উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তাঁদের পরিজনদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জীবিকার তাগিদে ওই তিন মৎস্যজীবী গুজরাটে পাড়ি দিয়েছিলেন। সেখানে একটি ট্রলারে কাজ নিয়ে নিয়মিত আরব সাগরে মাছ ধরতে যেতেন। অনুমান করা হচ্ছে, মাছ ধরার সময় অসাবধানতাবশত আন্তর্জাতিক জলসীমা অতিক্রম করে তাঁদের ট্রলার পাকিস্তানের জলসীমায় ঢুকে পড়ে। এরপরই পাকিস্তানের উপকূলরক্ষী বাহিনী তাঁদের আটক করে এবং জেলে পাঠায়।
তপন মহাপাত্রের স্ত্রী মমতা দেবী বলেন, “নৌকার মালিক গুজরাটে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তারা বলছে পাকিস্তানের জেল থেকে ছাড়া পেলেই বাড়ি ফিরবে। কিন্তু এতদিন হয়ে গেল, আমার স্বামীর কোনও খোঁজ পাচ্ছি না।” কাশীনাথ মণ্ডলের স্ত্রী পার্বতী দেবীর কথায়, “আমরা খুব গরিব মানুষ। সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। আটকের দু’মাস পরে খবর পাই। আমাদের অনুরোধ, ওদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হোক।”
পরিবারের দাবি, ২০২৫ সালের শুরুর দিকে হোয়াটসঅ্যাপ মারফত একটি চিঠি তাঁদের কাছে পৌঁছেছিল। তবে তারপর থেকে আর কোনও নতুন খবর না মেলায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। প্রশাসনের তরফে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানানো হলেও নির্দিষ্ট করে মুক্তির সময়সীমা নিয়ে কিছু বলা হয়নি।
উল্লেখ্য, সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ভারত ও পাকিস্তানের মৎস্যজীবীদের একে অপরের জলসীমায় ঢুকে পড়ার ঘটনা নতুন নয়। অতীতেও বহুবার কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে বন্দি মৎস্যজীবীদের মুক্তি মিলেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত তথ্য বিনিময় ও কনস্যুলার অ্যাক্সেস নিশ্চিত করা জরুরি।
এদিকে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যদের অনুপস্থিতিতে তপন, কাশীনাথ ও দিলীপের পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। স্থানীয় স্তর থেকে সরকারি সহায়তা এবং কেন্দ্রের কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে দ্রুত তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জোরালো হচ্ছে। নামখানার বাসিন্দাদের একটাই প্রশ্ন—আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে তাঁদের প্রিয়জনদের ফেরার জন্য?


