বিধানসভা নির্বাচনের ধাক্কার পর তৃণমূলের অন্দরেই বাড়ছে অস্বস্তি। রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভায় একের পর এক কাউন্সিলরের ইস্তফা ঘিরে চাপে শাসকদল। এই আবহেই সোমবার কালীঘাটে দলীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
উত্তর শহরতলির দমদম, উত্তর দমদম, দক্ষিণ দমদম, বরানগর পুরসভা এবং বিধাননগর পুরনিগমের মেয়র, চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলরদের নিয়ে বৈঠকে দলনেত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কঠিন সময়ে দল ছেড়ে চলে যাওয়াকে ভালো চোখে দেখা হবে না। তাঁর কথায়, “সুখে থাকবেন, দুঃখে থাকবেন না— সেটা হয় না। তবে কারও যেতে ইচ্ছা হলে আটকাব না।”
সম্প্রতি বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতির পদ ছাড়েন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। এরপরই নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাপস চট্টোপাধ্যায়কে। রাজনৈতিক মহলের মতে, সাংগঠনিক রদবদলের মাধ্যমে ক্ষয় রোখার চেষ্টা শুরু করেছে তৃণমূল।
বৈঠকে মমতা নেতাকর্মীদের মনোবল ধরে রাখার উপর জোর দেন। তিনি জানান, বর্তমান পরিস্থিতি কঠিন হলেও লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। পাশাপাশি আক্রান্ত দলীয় কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে এবং প্রয়োজন হলে আইনি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশও দেন তিনি।
সেই উদ্দেশ্যে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি তৈরি হয়েছে। সেখানে রয়েছেন মলয় ঘটক, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য-সহ একাধিক নেতা।
এদিন দক্ষিণ দমদমের কাউন্সিলর সঞ্জয় দাসের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর পরিবারের পাশে থাকার আবেদন জানান উপস্থিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে।
রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে আন্দোলনের প্রসঙ্গ উঠতেই মমতা জানান, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করা যেতে পারে। থানায় ডেপুটেশন দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।


