মার্কিন রাজনীতিতে বড় ধাক্কা! প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর শুল্কনীতি বেআইনি বলে ঘোষণা করল আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট। শুধু রায়ই নয়, ভারত-সহ একাধিক দেশের উপর বসানো তাঁর সব শুল্ক কার্যত খারিজ। আর এই সিদ্ধান্তের জেরেই তৈরি হল নতুন কূটনৈতিক টানাপোড়েন।
রায়ের ঠিক পরেই স্থগিত হয়ে গেল ভারত-আমেরিকার বহু প্রতীক্ষিত বাণিজ্য বৈঠক। সোমবার আমেরিকায় বসার কথা ছিল দু’দেশের প্রতিনিধিদের। তিন দিন ধরে চলার কথা ছিল আলোচনা। সূত্রের দাবি, চুক্তি স্বাক্ষরের আগে শেষ মুহূর্তের সূক্ষ্ম বিষয়গুলি নিয়ে কথা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আচমকাই ব্রেক! আদালতের রায়ের পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়।
সরকারি ভাবে কেউ মুখ না খুললেও কেন্দ্রের এক শীর্ষ আধিকারিকের কথায় স্পষ্ট, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। আদালতের রায়ের প্রভাব কতটা গভীর, তা খতিয়ে না দেখে এগোতে চাইছে না দিল্লি ও ওয়াশিংটন। শুধু তাই নয়, রায়ের পর ট্রাম্পের অবস্থানও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। প্রথমে ১০ শতাংশ শুল্কের ঘোষণা, পরে তা বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার ইঙ্গিত — এমনকি ভবিষ্যতে আরও কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
ফলে প্রশ্ন উঠছে, ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যচুক্তি কি এখন অনিশ্চয়তার মুখে? নাকি নতুন শর্তে, নতুন কাঠামোয় এগোবে আলোচনা? বণিকমহলে ইতিমধ্যেই চাপা উদ্বেগ। কারণ এই চুক্তি ঘিরে বহু শিল্পক্ষেত্রের ভবিষ্যৎ জড়িয়ে রয়েছে।
শনিবার কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রক জানিয়ে দিয়েছে, আদালতের রায় এবং মার্কিন প্রশাসনের সাম্প্রতিক ঘোষণার সম্ভাব্য প্রভাব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অর্থাৎ আপাতত ‘ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ’। তবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের দাবার ছকে যে নতুন চাল শুরু হয়েছে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই।


