উত্তরপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে বঙ্গ সিপিএমে নতুন করে অস্বস্তি দানা বাঁধছে। এই কেন্দ্র থেকে আগাম প্রার্থীপদের ইঙ্গিত পেয়েছেন বলে জোর জল্পনা ছড়াতেই বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছেন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। আর তাঁকে ঘিরেই পার্টির একাংশের তরুণ নেতৃত্বের ক্ষোভ গিয়ে পড়েছে রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম-এর উপর।
দলীয় সূত্রের খবর, কয়েকদিন আগে সেলিম নাকি মীনাক্ষীকে উত্তরপাড়ায় বেশি করে মনোযোগ দিতে বলেন। তারপর থেকেই তাঁকে কার্যত ওই কেন্দ্রে ঘাঁটি গেড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে। জনসংযোগ, ছোট বৈঠক থেকে সংগঠনের কর্মসূচি—সব ক্ষেত্রেই উত্তরপাড়াকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন তিনি। সিপিএমের অফিসিয়াল প্রচারমাধ্যমেও উত্তরপাড়ায় তাঁর সক্রিয়তার ছবি ও ভিডিও সামনে আসছে। এতেই প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি প্রার্থী প্রায় চূড়ান্ত?
অন্যদিকে, গত লোকসভা নির্বাচনে শ্রীরামপুর কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে উত্তরপাড়া বিধানসভা এলাকার মধ্যে তুলনামূলক ভালো ফল করেছিলেন দীপ্সিতা ধর। যুব নেতৃত্বের একাংশের দাবি, উত্তরপাড়া সিপিএমের জন্য এখনও সম্ভাবনাময় আসন। সেখানে যিনি আগে লড়াই করে সংগঠন তৈরি করেছেন, তাঁকে অন্ধকারে রেখে অন্য কাউকে আগাম ইঙ্গিত দেওয়া হলে স্বাভাবিকভাবেই অসন্তোষ বাড়বে। দলের অন্দরেই শোনা যাচ্ছে, “চুপি-চুপি” সিদ্ধান্ত নেওয়ার সংস্কৃতি কি তবে জোরদার হচ্ছে?
এই প্রেক্ষিতে উঠে আসছে দলত্যাগী নেতা প্রতীক উর রহমান-এর পুরনো মন্তব্যও। তিনি একসময় দলে ‘প্যারেলাল’ বা সমান্তরাল শক্তিকেন্দ্র তৈরির অভিযোগ তুলেছিলেন। এখন যুব নেতৃত্বের একাংশ বলছে, নির্দিষ্ট কয়েকজনকে বাড়তি সুবিধা দিয়ে বাকিদের কোণঠাসা করে রাখার প্রবণতা কি সেই অভিযোগকেই প্রমাণ করছে না?
মীনাক্ষীর দ্রুত উত্থান নিয়েও দলে চাপা প্রশ্ন রয়েছে। অল্প বয়সেই কেন্দ্রীয় কমিটিতে জায়গা পাওয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব—সব মিলিয়ে তাঁর রাজনৈতিক অগ্রগতি নিয়ে দলের কট্টরপন্থী অংশের মধ্যেও কানাঘুষো শোনা যায়। এমনকি অতীতে তাঁর চাকরি সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ।
সব মিলিয়ে উত্তরপাড়া কেন্দ্র ঘিরে প্রার্থীপদ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না হলেও, আগাম ইঙ্গিতের জল্পনাই বঙ্গ সিপিএমের অন্দরে বিভাজনের রেখা আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। নির্বাচনের আগে এই অসন্তোষ কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।


