বাংলার মাটিতে ফের নির্বাচনী যুদ্ধের দামামা। আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে তুঙ্গে প্রস্তুতি শাসক ও বিরোধী শিবিরে। রাজনৈতিক অঙ্ক কষে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে শাসকদল সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। দলীয় সূত্রে খবর, ২৯৪টি আসনের প্রার্থী তালিকা প্রায় চূড়ান্ত। দীর্ঘ সমীক্ষা ও সংগঠনের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের ভিত্তিতেই তৈরি হয়েছে তালিকা। অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের মেলবন্ধনই এবার ঘাসফুল শিবিরের প্রধান ভরসা।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কলকাতায় বড় রদবদলের সম্ভাবনা কম। ভবানীপুরে ফের প্রার্থী হতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই। রাসবিহারীতে দেবাশিস কুমার ও কলকাতা বন্দরে ফিরহাদ হাকিমের নাম প্রায় নিশ্চিত। টালিগঞ্জে অরূপ বিশ্বাসের লড়াই করা স্থির বলেই খবর। বালিগঞ্জে আসন পরিবর্তনের জল্পনা রয়েছে; সেখানে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম শোনা যাচ্ছে। বেহালা পশ্চিমে নতুন মুখ আনার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
উত্তর ২৪ পরগনায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত নেই। তবে বারাসতে তিনবারের বিধায়ক চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী সরে দাঁড়াতে চাইলে সেখানে নতুন প্রার্থী দেখা যেতে পারে। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় যাদবপুর, সোনারপুর, বারুইপুরে পরীক্ষিত মুখই এগিয়ে। কসবায় জাভেদ খানের প্রার্থীপদ প্রায় নিশ্চিত। ভাঙড়ে শক্ত প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম কেন্দ্র ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। সেখানে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-র বিরুদ্ধে কৌশলী প্রার্থী নামাতে চাইছে তৃণমূল। শোনা যাচ্ছে, ভূমিপুত্রকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে। জেলার আরও কয়েকটি আসনেও বদলের সম্ভাবনা রয়েছে।
হাওড়া ও হুগলিতে অধিকাংশ পুরনো মুখই টিকিট পেতে পারেন। মুর্শিদাবাদ ও পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় সীমিত রদবদল হতে পারে। উত্তরবঙ্গে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে শাসক শিবির। রাজবংশী ও চা বলয়ের ভোট, পাশাপাশি পাহাড়ের সমীকরণ মাথায় রেখে প্রার্থী বাছাই চলছে।
সবমিলিয়ে নজর এখন একটাই—কারা বাদ পড়ছেন, কারা নতুন মুখ হিসেবে আসছেন এবং কোন কোন পরিচিত ব্যক্তিত্ব নির্বাচনী লড়াইয়ে নামছেন। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হলেই স্পষ্ট হবে বাংলার রাজনৈতিক মহারণের প্রকৃত চিত্র।


