ভোট এলেই তারকার চমক—এই ছিল তৃণমূলের বহু বছরের পরিচিত কৌশল। কখনও মিমি, কখনও নুসরত, কখনও কাঞ্চন—প্রার্থী তালিকায় বারবারই উঠে এসেছে টলিউডের পরিচিত মুখ। কিন্তু ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটে সেই ছবিতে বড়সড় বদল। এবার আর নতুন তারকা চমক নয়, বরং পুরনোদের উপরেই আস্থা রেখেছে শাসকদল।
প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হতেই স্পষ্ট, বহু আলোচিত নাম থাকা সত্ত্বেও নতুন কোনও তারকা মুখকে টিকিট দেওয়া হয়নি। বরং বাদ পড়েছেন কাঞ্চন মল্লিক, চিরঞ্জিৎ-র মতো পরিচিত মুখও। ‘সেলেব’ তালিকায় একমাত্র নতুন সংযোজন শ্রেয়া পাণ্ডে, যিনি মানিকতলা কেন্দ্র থেকে লড়াই করবেন। প্রয়াত সাধন পাণ্ডের রাজনৈতিক জমিতে এবার তাঁর উপরেই ভরসা রেখেছে দল।
অন্যদিকে আগের মতোই কিছু পরিচিত মুখকে ধরে রাখা হয়েছে। বারাকপুরে রাজ চক্রবর্তী, বরানগরে সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজারহাট-গোপালপুরে অদিতি মুন্সি, চন্দননগরে ইন্দ্রনীল সেন—এই তালিকায় ধারাবাহিকতার ছাপ স্পষ্ট। অভিনেতা সোহম চক্রবর্তীর ক্ষেত্রেও আস্থা রেখেছে দল, যদিও তাঁর কেন্দ্র বদলে করিমপুরে পাঠানো হয়েছে।
তাহলে হঠাৎ এই বদল কেন? রাজনৈতিক মহলের মতে, এবার চমকের বদলে ‘পারফরম্যান্স’-এর উপর জোর দিয়েছে তৃণমূল। দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত, মাটির কাছাকাছি থাকা নেতাদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এই বার্তাই বারবার উঠে এসেছে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বক্তব্যে।
এছাড়াও অতীতে তারকা প্রার্থী নিয়ে একাধিকবার অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে দলকে। টিকিট বণ্টন নিয়ে ক্ষোভ, জয়ের পর কাজ না করার অভিযোগ—সব মিলিয়ে অভিজ্ঞতা খুব সুখকর ছিল না। অনেক ক্ষেত্রেই অভিযোগ উঠেছে, ভোটে জেতার পর এলাকাবাসীর কাছে সহজলভ্য থাকেন না তারকা প্রার্থীরা।
সেই অভিজ্ঞতা থেকেই কি এবার সতর্ক তৃণমূল? অনেকেই বলছেন, হ্যাঁ। কারণ এই নির্বাচনে দল স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে—চেনা মুখ নয়, কাজই আসল পরিচয়। তাই তারকার ঝলক সরিয়ে রেখে এবার মাটির মানুষের উপরেই বাজি ধরেছে শাসক শিবির।


