৪৩ বছর জেল খাটার পর আদালতে নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত সুব্রামনিয়ম ‘সুবু’ বেদম। কিন্তু মুক্তির স্বাদ পাওয়ার আগেই আবার নতুন বিপদে পড়েছেন তিনি। খুনের মামলা থেকে মুক্তি মিললেও এখনও তিনি মার্কিন অভিবাসন দপ্তর আইসিই–র হেফাজতে।
সম্প্রতি এক ইমিগ্রেশন বিচারক রায় দিয়েছেন, ৬৪ বছর বয়সী সুবু বেদম আপাতত যুক্তরাষ্ট্রেই থাকতে পারবেন। তবে বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত নয়। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দপ্তরের হাতে ৪ মে পর্যন্ত সময় রয়েছে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার।
সুবু মাত্র নয় মাস বয়সে বাবা-মায়ের সঙ্গে আমেরিকায় গিয়েছিলেন। সেখানেই বড় হওয়া, সেখানেই জীবন। কিন্তু ১৯৮২ সালে, মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে, তাকে গ্রেফতার করা হয় তার বন্ধু থমাস কিনসার হত্যার অভিযোগে।
১৯৮০ সালে নিখোঁজ হওয়া কিনসারের দেহ নয় মাস পরে জঙ্গলে উদ্ধার হয়েছিল। মাথায় ছিল গুলির চিহ্ন। প্রত্যক্ষ প্রমাণ, হত্যার অস্ত্র বা সাক্ষী—কিছুই না থাকলেও শুধু পরিস্থিতিগত প্রমাণের ভিত্তিতে ১৯৮৩ সালে সুবুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এরপর কেটে যায় চার দশকেরও বেশি সময়। অবশেষে ২০২৫ সালে আদালত জানায়—খুনের মামলায় তার বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণই নেই। মুক্তি পান সুবু। কিন্তু জেল থেকে বেরোনোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে আবার আটক করে আইসিই।
কারণ হিসেবে সামনে আনা হয় ১৯৮০–এর দশকের শুরুতে হওয়া ছোট একটি মাদক সংক্রান্ত মামলা। সেই পুরনো ঘটনাকে সামনে এনে তাকে ভারতে পাঠানোর চেষ্টা শুরু হয়।
এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেন তার বোন। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে বিচারক রায় দেন, সুবু বেদম যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ পাবেন।
রায়ে বিচারক উল্লেখ করেন, কারাগারের ৪৪ বছর তিনি শুধু কাটাননি—নিজেকে বদলেছেন। পড়াশোনা করেছেন, পরিবারকে মানসিকভাবে শক্তি দিয়েছেন, বিশেষ করে তার চার ভাতিজিকে।
তবু এখনও অনিশ্চয়তা কাটেনি। ৪ মে-র আপিলের সময়সীমা পার হলেই বোঝা যাবে—চার দশকের অন্ধকারের পর সুবু বেদম সত্যিই স্বাধীন জীবনের আলো দেখতে পারবেন কি না।


