রাজ্যের রাজনৈতিক আবহে বরফ গলানোর ইঙ্গিত স্পষ্ট। রাজ্যপালের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে অবশেষে লোকভবনের (পূর্বতন রাজভবন) সান্ধ্য চা-চক্রে যোগ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার সন্ধ্যায় লোকভবনে পৌঁছে তিনি সাংবাদিকদের সামনে স্পষ্ট করে দেন—এটি কোনও রাজনৈতিক বৈঠক নয়, শুধুমাত্র সৌজন্য সাক্ষাৎ।
উল্লেখযোগ্যভাবে, মুখ্যমন্ত্রীর আগমনের কিছুক্ষণ আগেই লোকভবনে গিয়ে রাজ্যপাল আরএন রবি-র সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিজেপি সাংসদ তথা প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। ফলে এই সাক্ষাৎকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল আরও বাড়ে।
প্রসঙ্গত, চলতি মাসের শুরুতেই বাংলায় রাজ্যপাল পদে নজিরবিহীন পরিবর্তন ঘটে। আচমকাই পদত্যাগ করেন সিভি আনন্দ বোস। তাঁর জায়গায় তামিলনাড়ুর প্রাক্তন রাজ্যপাল রবীন্দ্রনাথ রবি-কে বাংলার সাংবিধানিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। গত ১২ মার্চ শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেও।
সেই অনুষ্ঠানেই নতুন রাজ্যপালকে বাংলার সংস্কৃতি ও আতিথেয়তার বার্তা দেন মমতা। তাঁর কথায়, “বাংলাকে যাঁরা ভালোবাসেন, বাংলাও তাঁদের ভালোবাসে।” এমনকি রাজ্যপালের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও সৌহার্দ্যপূর্ণ আলাপচারিতায় অংশ নেন তিনি। সেই সৌজন্যের সূত্র ধরেই রাজ্যপাল তাঁকে চা-চক্রে আমন্ত্রণ জানান।
শনিবার সেই আমন্ত্রণ রক্ষা করতেই লোকভবনে যান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, এই সফরের কোনও নির্দিষ্ট অ্যাজেন্ডা নেই। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যপাল ও রাজ্য সরকারের মধ্যে যে তিক্ততা তৈরি হয়েছিল, তা মসৃণ করার লক্ষ্যে এই সাক্ষাৎ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
সব মিলিয়ে, সৌজন্যের আড়ালে সম্পর্কের নতুন সমীকরণ তৈরির ইঙ্গিত স্পষ্ট বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।


