ঝাড়গ্রামে সভা শেষ করে হেলিপ্যাডের দিকে যাচ্ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। পড়ন্ত বিকেলে আচমকাই থেমে যায় তাঁর কনভয়। নিরাপত্তা বলয় ভেঙে গাড়ি থেকে নেমে ধীর পায়ে এগিয়ে যান কলেজ মোড়ের এক ছোট্ট ঝালমুড়ির দোকানের দিকে। হেসে বললেন, “ভাই, ঝালমুড়ি খাওয়ান তো।”
এমন দৃশ্য দেখে প্রথমে কিছুটা হতভম্ব হয়ে পড়েন দোকানদার বিক্রম সাউ। প্রধানমন্ত্রী নিজে ঝালমুড়ি খাবেন—এই ভাবনাই যেন তাঁর কাছে অবিশ্বাস্য। ১০ টাকার ঝালমুড়ি বানাতে শুরু করেন তিনি। টাকা নিতে ইতস্তত করছিলেন বিক্রম, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন—“এ সব হয় না।” নিজের পকেট থেকেই টাকা দিয়ে দেন তিনি।
মুড়ি মাখার সময় স্বাভাবিক কথোপকথনও হয় দু’জনের মধ্যে। “ঝাল খাবেন?”—প্রশ্ন বিক্রমের। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “হ্যাঁ।” পেঁয়াজ দেবেন কি না জানতে চাইলে তিনি হিন্দিতে মজার ছলে বলেন, “পেঁয়াজও খাই… শুধু দিমাগ নহি খাতে হ্যায়।” কথায় হাসির রোল পড়ে যায় চারপাশে।
এরপর ঠোঙা হাতে নিয়ে নিজে ঝালমুড়ি খান প্রধানমন্ত্রী, পাশাপাশি উপস্থিত অন্যদেরও দেন। কর্মসূচির ব্যস্ততার মাঝেই এই ছোট্ট মুহূর্ত যেন হয়ে ওঠে আলাদা আকর্ষণ—একেবারে ‘মুড়ি পে চর্চা’।
ঘটনার সময় দোকানের সামনে উপস্থিত ছিলেন কণিকা মাহাতো, কল্যাণী মাহাতোরা। তাঁদের কথায়, “এমন দৃশ্য সামনে থেকে দেখব ভাবতেই পারিনি। দেশের প্রধানমন্ত্রী এত সহজভাবে ঝালমুড়ি খেলেন, আবার অন্যদেরও দিলেন—এটা সত্যিই অবাক করার মতো।”
দোকানদার বিক্রম সাউ জানান, তাঁর বাড়ি বিহারের গয়ায় হলেও বহু বছর ধরে ঝাড়গ্রামের কলেজ মোড়েই এই দোকান চালান। প্রধানমন্ত্রীকে কাছ থেকে দেখা ও ঝালমুড়ি খাওয়ানোর অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বলেন, “উনি আগে আমার সঙ্গে কথা বলেন—নাম, বাড়ির ঠিকানা সব জানতে চান। তারপর ঝালমুড়ি বানাতে বলেন। খুব সাধারণভাবে কথা বললেন, খেয়েও দেখলেন, অন্যদেরও দিলেন—এটা আমি কোনও দিন ভুলব না।”
এই ঘটনার ছবি পরে নিজেই সমাজমাধ্যমে ভাগ করে নেন প্রধানমন্ত্রী, যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।


