শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদই আজকের ভারতে সবচেয়ে বড় “অপরাধ” হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন কংগ্রেস নেতা Rahul Gandhi। সামাজিক মাধ্যমে করা এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি অভিযোগ করেছেন, বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রকে এমন এক পথে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে যেখানে ভিন্নমতকে দেশদ্রোহ এবং প্রশ্ন তোলাকে ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখানো হচ্ছে।
রাহুল গান্ধীর দাবি, যে কোনও ইস্যুতেই যদি কেউ সাংবিধানিক উপায়ে সরকারের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলেন, তবে তার পরিণতি হচ্ছে লাঠিচার্জ, মামলা এবং গ্রেফতার। তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা যুবকদের লাঠিচার্জের মুখে পড়তে হয়েছে। দেশের নামী মহিলা কুস্তিগিররা এক প্রভাবশালী বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করলেও তাঁদের আন্দোলন দমন করা হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ধর্ষণ-পীড়িতার সমর্থনে ইন্ডিয়া গেটে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ হোক বা পরিবেশ দূষণের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের সরব হওয়া—সব ক্ষেত্রেই প্রতিবাদকে রাজনৈতিক রঙ দিয়ে দমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। কৃষক আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীদের দেশবিরোধী তকমা দেওয়া থেকে শুরু করে কাঁদানে গ্যাস, জলকামান ও লাঠিচার্জের ব্যবহার—এসবকেই তিনি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী বলে আখ্যা দেন। আদিবাসীদের জল, জঙ্গল ও জমির অধিকারের দাবিকেও সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
কেন্দ্রের বাণিজ্য চুক্তির বিরোধিতায় যুব কংগ্রেসের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে রাহুলের দাবি, সরকারের সমালোচনা করলেই বিরোধীদের দেশবিরোধী বলা হচ্ছে। তাঁর কথায়, গণতন্ত্রে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কোনও অপরাধ নয়, বরং সেটাই গণতন্ত্রের প্রাণ। প্রশ্ন করা দুর্বলতা নয়, বরং শক্তির পরিচয়। সরকার যদি সমালোচনা শুনতে না চায় এবং জবাবদিহি এড়িয়ে যায়, তবে গণতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ে।
প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-কে সরাসরি আক্রমণ করে তিনি লেখেন, ভারত উত্তর কোরিয়া নয়। যখন শাসক নিজেকে রাষ্ট্রের সমার্থক ভাবতে শুরু করে এবং ভিন্নমতকে শত্রু হিসেবে দেখে, তখনই গণতন্ত্রের মৃত্যু ঘটে। তাঁর এই পোস্ট ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে।


