টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শুরুতেই ক্রিকেট মহলে আচমকা এমন এক খবর ছড়িয়ে পড়েছে, যা মুহূর্তে বদলে দিয়েছে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের আলোচনার গতিপথ। সূত্রের দাবি, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (RCB) কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের অন্যতম মালিক আব্রাম গ্লেজার। আর এই আগ্রহের পিছনে রয়েছে বিশাল অঙ্কের দরপত্র—১.৮ বিলিয়ন পাউন্ড, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৬,৩০০ কোটি টাকা।
আইপিএলের সবচেয়ে আলোচিত দলগুলোর মধ্যে আরসিবি অন্যতম। কারণ, ১৮ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে তারা আইপিএল ট্রফির স্বাদ পেয়েছে। শুধু পুরুষদের দল নয়, মহিলা আইপিএলেও ২০২৪ ও ২০২৬ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়ে দলটি প্রমাণ করেছে—আরসিবি এখন শুধুই জনপ্রিয় নয়, শিরোপা জয়ের দলও।
এই পরিস্থিতিতে মালিকানা বদলের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
বিশ্বজুড়ে পরিচিত গ্লেজার পরিবার মূলত ল্যান্সার ক্যাপিটাল নামের ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত। শোনা যাচ্ছে, সেই সংস্থার মাধ্যমেই আরসিবির জন্য দরপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। সবথেকে বড় চমক হল—গ্লেজার পরিবার নাকি কোনও পার্টনার বা যৌথ বিনিয়োগকারী ছাড়াই এককভাবে আরসিবি কিনতে চাইছে। অর্থাৎ সম্পূর্ণ মালিকানা নিজেদের দখলে আনতেই তারা আগ্রহী।
ক্রিকেট মহলের ধারণা, এই একক মালিকানার প্রস্তাবই তাদের এগিয়ে রেখেছে। কারণ, যৌথ মালিকানার তুলনায় একক বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত অনেক দ্রুত কার্যকর হয় এবং দরপত্র গ্রহণের সম্ভাবনাও বেশি থাকে।
এদিকে আব্রাম গ্লেজারের ক্রিকেট সংযোগ নতুন নয়। তিনি সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর জনপ্রিয় টি-টোয়েন্টি লিগে ডেজার্ট ভাইপার্স দলের মালিকও। ফলে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট পরিচালনার অভিজ্ঞতা তার রয়েছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
তবে গ্লেজার পরিবারই একমাত্র নয়। আরসিবি কেনার দৌড়ে আরও কয়েকটি বড় নাম ঘুরছে। শোনা যাচ্ছে, মাহিন্দ্রা গ্রুপ, কোটাক গ্রুপ এবং হোমবেল ফিল্মসের মতো সংস্থাও আগ্রহী। এমনকি কেপ্রি গ্লোবাল নামে এক প্রাইভেট ইকুইটি ফার্মের নামও উঠে এসেছে। কিন্তু সব আলোচনাকে ছাপিয়ে যাচ্ছে গ্লেজার পরিবারের নাম।
কারণ, গ্লেজাররা যদি সত্যিই আরসিবি কিনে নেয়, তাহলে দলটির ব্র্যান্ড ভ্যালু এবং আন্তর্জাতিক পরিচিতি আরও বহুগুণ বাড়তে পারে। ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের মতো বিশ্ববিখ্যাত ক্লাব পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকায় আরসিবি বিশ্বমঞ্চে আরও শক্তিশালী ব্র্যান্ড হিসেবে উঠে আসতে পারে বলে মনে করছেন ক্রিকেটপ্রেমীরা।
সব মিলিয়ে এখন একটাই প্রশ্ন—১৬,৩০০ কোটির এই বিশাল দরপত্র কি সত্যিই আরসিবির মালিকানা বদলে দেবে? নাকি এই খবর শুধুই বাজার গরম করার গুঞ্জন?
যাই হোক, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শুরুতেই এই খবর ক্রিকেট মহলে ঝড় তুলে দিয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।


