ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে উত্তর ২৪ পরগনার মতো শক্ত ঘাঁটিতেও আশানুরূপ ফল করতে পারেনি তৃণমূল কংগ্রেস। জেলার ৩৩টি আসনের মধ্যে মাত্র ৯টিতে জয় পেয়েছে ঘাসফুল শিবির। বারাসত-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে বিজেপির উত্থান দলের অন্দরেই চাপ বাড়িয়েছে। আর তার জেরেই এবার সাংগঠনিক স্তরে বড়সড় রদবদলের পথে হাঁটল তৃণমূল নেতৃত্ব।
বৃহস্পতিবার কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে অনুষ্ঠিত দলের অভ্যন্তরীণ বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সূত্রের খবর, বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সাংসদীয় গুরুত্ব অনেকটাই কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। লোকসভায় দলের মুখ্য সচেতক বা চিফ হুইপ পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে ফের সেই দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে বর্ষীয়ান সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে।
দলের অন্দরে এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ, দীর্ঘদিন ধরেই সংসদে তৃণমূলের অন্যতম আক্রমণাত্মক মুখ হিসেবে পরিচিত কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার লোকসভায় তাঁকেই ফের গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্বে ফিরিয়ে এনে স্পষ্ট বার্তা দিল শাসকদল।
সূত্রের খবর, লোকসভায় দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই আগামী দিনে সংসদীয় কৌশল ঠিক করবেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক মহলের মতে, উত্তর ২৪ পরগনায় ভরাডুবির পর দল যে কড়া বার্তা দিতে চাইছে, এই সিদ্ধান্ত তারই ইঙ্গিত।


