প্রাথমিক নিয়োগ মামলায় ৩২,০০০ শিক্ষকের চাকরি বহাল রাখল কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশ খারিজ করে বেঞ্চ জানায়, নিয়োগপ্রক্রিয়ায় যদি কোথাও কিছু ত্রুটি থেকেও থাকে, সেই গরমিলের দায় সরাসরি চাকরিপ্রার্থীর উপর বর্তায় না। বহুদিন ধরে শিক্ষকতা করছেন, ক্লাস নিচ্ছেন, স্কুলের পরিকাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন— এমন হাজার হাজার শিক্ষককে একসঙ্গে চাকরিচ্যুত করা বাস্তবিক এবং মানবিক দিক থেকে যুক্তিযুক্ত নয় বলেই পর্যবেক্ষণ আদালতের।
ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট করে দেয় যে, নিয়োগ বাতিল করা হলে রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থাই গুরুতরভাবে বিপর্যস্ত হবে। বিশেষত গ্রামীণ ও প্রান্তিক এলাকার স্কুলে একসঙ্গে এত শিক্ষক সরিয়ে দিলে শিশুদের শিক্ষার ক্ষতি অনিবার্য। তাই আদালত মনে করে, প্রশাসনিক বা কারিগরি ত্রুটি থাকলে তা সংশোধন করার সুযোগ আছে, প্রয়োজন হলে কমিশন নতুন করে যাচাই-পরীক্ষা করতে পারে; কিন্তু চাকরি কেড়ে নেওয়া কোনওভাবেই ন্যায়সংগত হতে পারে না।
রায়ে আরও বলা হয়, প্রার্থীরা নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করে বহু প্রতিকূলতার মধ্যে চাকরি পেয়েছেন এবং দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁদের পরিবার, ভবিষ্যৎ, আর্থিক নিরাপত্তা— সব কিছুর সঙ্গেই এই চাকরি জড়িয়ে। ফলে ‘শাস্তিমূলক’ সিদ্ধান্ত হিসেবে চাকরি বাতিল করা অমানবিক হবে। জনস্বার্থ, শিশুশিক্ষা এবং মানবিকতার দৃষ্টিকোণ থেকে এই ৩২,০০০ শিক্ষকের চাকরি বহাল রাখাই সঠিক পথ বলে মত দেয় ডিভিশন বেঞ্চ।


