তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী সাংসদদের শিবির নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিল। সরাসরি বিজেপিতে যোগ না দিয়ে ত্রিপুরাভিত্তিক ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া (এনসিপিআই)-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে এনডিএ-কে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে চিঠি জমা দিয়ে সেই আবেদন জানান বিদ্রোহী সাংসদরা।
বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম মুখ কাকলি ঘোষ দস্তিদার জানান, তাঁরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশের স্বার্থে এনডিএ-র সঙ্গে কাজ করতে চান। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গে এনসিপিআই-এর সাংগঠনিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের কথাও ঘোষণা করেন তিনি।
২০২২ সালে প্রতিষ্ঠিত এনসিপিআই-এর সংগঠন বর্তমানে ত্রিপুরা, অসম এবং পশ্চিমবঙ্গে সীমিত পরিসরে সক্রিয়। হাওড়ার বাঁকড়ায় দলের একটি কার্যালয়ও রয়েছে। তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত এই রাজনৈতিক দলকেই নিজেদের নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় হিসেবে বেছে নিয়েছেন বিদ্রোহী সাংসদরা।
এর আগে বিদ্রোহী সাংসদরা লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের থেকে আলাদা একটি ব্লক গঠনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তবে সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী একই রাজনৈতিক দলের দুই পৃথক ব্লকের স্বীকৃতি দেওয়ার সুযোগ নেই। সেই কারণেই বিদ্রোহী শিবিরের দাবির বিরোধিতা করে লোকসভার স্পিকারের কাছে চিঠি দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল সাংসদ সাগরিকা ঘোষ এবং কীর্তি আজাদ সেই চিঠি স্পিকারের হাতে তুলে দেন।
এর কিছুক্ষণ পরেই বিদ্রোহী শিবিরের ২০ জন সাংসদ স্পিকার ওম বিড়লার বাসভবনে গিয়ে এনসিপিআই-তে যোগদানের সিদ্ধান্ত এবং এনডিএ-কে সমর্থনের ইচ্ছার কথা জানিয়ে পৃথক চিঠি জমা দেন। ঘটনাকে ঘিরে তৃণমূলের অন্দরে রাজনৈতিক টানাপোড়েন আরও তীব্র হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।


