জলপাইগুড়িতে কলকাতা হাই কোর্টের সার্কিট বেঞ্চের স্থায়ী ভবনের উদ্বোধন মঞ্চ কার্যত রাজনৈতিক বার্তাকেন্দ্রে পরিণত হল। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সামনে দাঁড়িয়েই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে তীব্র আক্রমণ শানালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নাম না করলেও তাঁর বক্তব্যে ইডি-সিবিআইয়ের মতো সংস্থার ‘রাজনৈতিক ব্যবহার’ স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে।
বিচারপতিদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে এখন মানুষের সম্মান ধ্বংস করাই যেন একটি প্রতিষ্ঠিত কৌশল। কিছু এজেন্সি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মানুষকে অপমান করছে বলে অভিযোগ তুলে তিনি বিচারব্যবস্থার কাছে হস্তক্ষেপের আবেদন জানান। তাঁর কণ্ঠে ছিল সরাসরি সতর্কবার্তা—সংবিধান ও গণতন্ত্র যদি দুর্বল হয়, তাহলে দেশই বিপদের মুখে পড়বে।
মমতা স্পষ্ট করে দেন, এই লড়াই কোনও ব্যক্তিগত স্বার্থের নয়। তাঁর কথায়, “আমি নিজের জন্য কিছু চাইছি না। মানুষকে বাঁচান, গণতন্ত্রকে বাঁচান, দেশকে বাঁচান।” প্রধান বিচারপতির উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশের নাগরিকরা বিচারব্যবস্থার সুরক্ষার মধ্যেই আছেন, আর সেই দায়িত্ব থেকেই সংবিধান রক্ষার আহ্বান জানান।
একই মঞ্চে বসে কেন্দ্রের আর্থিক নীতির বিরুদ্ধেও তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যে একের পর এক ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট, মহিলা আদালত, পসকো ও মানবাধিকার আদালত গড়ে তোলার উদাহরণ তুলে ধরে তিনি জানান, কেন্দ্রীয় অনুদান বন্ধ থাকায় রাজ্যকে নিজস্ব তহবিল থেকেই প্রায় ১,২০০ কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়েছে। বক্তব্যের সময় মঞ্চে উপস্থিত কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়ালের দিকে তাকিয়েই এই অভিযোগ তোলেন তিনি, যা রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
বিচারপতি, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী—একই মঞ্চে এই ত্রিমুখী উপস্থিতির মধ্যেই মমতার বক্তব্য স্পষ্ট করে দিল, ২০২৬-এর আগে কেন্দ্র–রাজ্য সংঘাত আরও তীব্র হতে চলেছে।


