দেশজুড়ে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় বাড়তে থাকা উদ্বেগের মধ্যে বড় ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার তিনি জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে কেন্দ্র সরকার ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এক্স (সাবেক টুইটার)-এ প্রধানমন্ত্রী লেখেন, দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ ও কল্যাণের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু হতে পারে না। তাই প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থ রক্ষায় সরকারের ধারাবাহিক উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তিনি সতর্ক করে বলেন, “যারা দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার চেষ্টা করবে, তাদের কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।”
সম্প্রতি নিট-ইউজি (NEET-UG) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। পরীক্ষা প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে আন্দোলনকারীরা দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন।
২০ জুলাই সংসদ অভিমুখে মিছিলের সময় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। অভিযোগ, কিছু বিক্ষোভকারী ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। ঘটনায় উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন। এরপরও হাজার হাজার আন্দোলনকারী ফের বিক্ষোভস্থলে জড়ো হয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
আন্দোলনকারীদের দাবি, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় স্বচ্ছ তদন্ত, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং জাতীয় স্তরের পরীক্ষাগুলি পরিচালনার পদ্ধতিতে মৌলিক পরিবর্তন আনতে হবে।
এদিকে সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক, যিনি ২৮ জুন থেকে আন্দোলনে যোগ দিয়ে অনির্দিষ্টকালের অনশনে রয়েছেন, জানিয়েছেন—শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার আশ্বাস এবং আন্দোলনের মূল দাবিগুলি নিয়ে সরকার ইতিবাচক পদক্ষেপ নিলে তিনি অনশন প্রত্যাহার করতে রাজি।


