বিরাট কোহলি শতরান করলেন। গ্যালারি দাঁড়িয়ে হাততালি দিল। কিন্তু স্কোরবোর্ডে বদলাল না শেষ সত্যিটা—হারল ভারত। ইনদওরে তৃতীয় একদিনের ম্যাচে নিউ জ়িল্যান্ডের কাছে পরাজয়ের সঙ্গে সঙ্গে ৩৯ বছর পর ঘরের মাঠে কিউয়িদের কাছে একদিনের সিরিজ হারল ভারত। প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—এই কি গম্ভীর-যুগের ‘নতুন ভারত’?
ম্যাচের শুরু থেকেই ছন্নছাড়া ছিল ভারতীয় পারফরম্যান্স। বল হাতে চাপ তৈরি হলেও নির্ধারিত সময়ে উইকেট তুলতে ব্যর্থ বোলাররা। ব্যাটিংয়ে সেই চিরচেনা ছবি—এক প্রান্তে একা লড়াই, অন্য প্রান্তে আত্মসমর্পণ। বিরাট কোহলি দায়িত্ব নিয়ে খেললেন, শতরান পূর্ণ করলেন, কিন্তু তাঁর ইনিংসও দলকে জেতাতে পারল না। সমালোচকরা বলছেন, বড় রান নয়—এই দলে দরকার ম্যাচ শেষ করার মানসিকতা।
হর্ষিত রানা শেষদিকে মরিয়া চেষ্টা করলেও তখন অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। মাঝের ওভারে ব্যাটিং ভেঙে পড়া, চাপ সামলাতে না পারা এবং পরিকল্পনার অভাব স্পষ্ট করে দিল ভারতের দুর্বলতা। নিউ জ়িল্যান্ড ঠান্ডা মাথায় ম্যাচ চালিয়ে নিয়ে গেল, আর ভারত মাঠে দাঁড়িয়ে দেখল ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি।
এই সিরিজ হার শুধু একটি পরাজয় নয়, এটি ব্যবস্থার ব্যর্থতা বলেই মনে করছেন বহু প্রাক্তন। তারকা নির্ভরতা, বেঞ্চ শক্তির অভাব আর চাপের মুখে ভেঙে পড়া—সব প্রশ্নই আবার সামনে চলে এসেছে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অতীতে যেমন শতরান করেও ম্যাচ হাতছাড়া হয়েছিল, ইনদওর যেন সেই দুঃস্বপ্নই ফিরিয়ে আনল।
গম্ভীরের কোচিংয়ে নতুন অধ্যায়ের কথা বলা হচ্ছিল। কিন্তু মাঠের ফলাফল বলছে, নাম বদলালেও সমস্যার চরিত্র বদলায়নি। শতরান থাকল, হাইলাইট থাকল—শুধু জয়টাই অনুপস্থিত।


