বাংলাদেশে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে এবার সেনাবাহিনীতেও বড় রদবদল। মহম্মদ ইউনুসের বিদায়ের পর থেকেই প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছিল। সেই ধারাবাহিকতায় রবিবার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করেছে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। সেনার একাধিক শীর্ষপদে বদল ঘিরে ঢাকায় শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
সেনা সদর দপ্তরের ঘোষণা অনুযায়ী, নতুন চিফ অফ জেনারেল স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল মইনুর রহমান। এতদিন আর্মড ফোর্সেস ডিভিশনের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার থাকা লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুলকে সরিয়ে বিদেশ মন্ত্রকে পাঠানো হয়েছে। কূটনৈতিক দায়িত্বে তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা যেতে পারে বলেই জল্পনা। অন্যদিকে মেজর জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমানকে প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও মেজর জেনারেল জে এম ইমদাদুল ইসলাম ও মেজর জেনারেল ফিরদৌস হাসানের দায়িত্বেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ পদোন্নতি হয়েছে দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনে কর্মরত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ হাফিজুর রহমানের। তাঁকে মেজর জেনারেল পদে উন্নীত করা হয়েছে। কূটনৈতিক মহলের মতে, দিল্লিতে কর্মরত একজন সেনাকর্তার এই পদোন্নতি নিছক প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, এর কূটনৈতিক বার্তাও থাকতে পারে।
ঠিক কী কারণে এই রদবদল, তা সরকারিভাবে স্পষ্ট করা হয়নি। তবে একই দিনে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় বর্মা বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী ও বিদেশ প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর জানান, পারস্পরিক সম্মান ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে আগ্রহী ভারত। তাঁর কথায়, আধুনিক বাংলাদেশ গঠনের পথে পাশে থাকতে চায় নয়াদিল্লি।
সব মিলিয়ে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সেনাবাহিনীর এই রদবদল যে কেবল অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং বৃহত্তর কূটনৈতিক সমীকরণের অংশ— এমনই ইঙ্গিত মিলছে বিভিন্ন মহলে।
ইউনুস-পরবর্তী বাংলাদেশে সেনা ভূমিকায় বড় পালাবদল! দিল্লি-যোগে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত


