ধর্মতলায় ধরনা মঞ্চে মমতার পাশে কবীর সুমন ও জয় গোস্বামী, ভোটাধিকার ইস্যুতে বিজেপিকে কড়া আক্রমণ। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় বহু সাধারণ মানুষের নাম বাদ পড়ার অভিযোগে ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেল ডোরিনা ক্রসিংয়ে ধরনায় বসেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই ধরনা মঞ্চেই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ালেন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা। মুখ্যমন্ত্রীর পাশে দেখা গেল গায়ক-কবি কবীর সুমন ও কবি জয় গোস্বামীকে। মঞ্চ থেকেই বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানাতে শোনা গেল তাঁদের।
এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে কবীর সুমন বলেন, ভোট দেওয়া তাঁর অধিকার এবং সেই অধিকার রক্ষার লড়াই চলছে। কারও অপছন্দের কারণে মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিজেপিকে কটাক্ষ করে বলেন, এতটা নির্বোধ আচরণ তিনি কল্পনাও করতে পারেননি। তাঁর কথায়, বিজেপির মাথায় কিছুই ঢোকেনি এবং তারা কিছুতেই জিততে পারবে না। যদিও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি জানান, তিনি তৃণমূল সমর্থক নন। তবে তাঁর মতে, আজকের কলকাতার উন্নয়ন ও পরিবর্তনের বড় কৃতিত্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায়ের পর শহরের রাস্তাঘাট ও পরিকাঠামোয় এমন পরিবর্তন খুব কমই দেখা গিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মঞ্চেই গান গেয়ে শোনান কবীর সুমন। ‘আজি বাংলাদেশের হৃদয় হতে’ গান পরিবেশনের পর সরস ভঙ্গিতে বিজেপিকে কটাক্ষ করে বলেন, “বেচারা বিজেপি, ওদের গাল টিপে দেবেন, ওরা এমনিই ভোটে হেরে গেছে।” পরে মুখ্যমন্ত্রীর অনুরোধে তিনি গেয়ে শোনান ‘পথে আবার নামো সাথী’।
ধরনা মঞ্চে উপস্থিত থেকে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাকেও প্রশ্নের মুখে তোলেন কবি জয় গোস্বামী। তাঁর কথায়, মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে এবং প্রবীণ মানুষদেরও প্রমাণ দিতে বারবার ছুটতে হচ্ছে। তিনি বলেন, এটি তাঁর ব্যক্তিগত বক্তব্য নয়—সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথাই তিনি তুলে ধরছেন। এমনকি অনেক প্রবীণ মানুষ এই পরিস্থিতিতে মানসিক চাপে ভেঙে পড়ছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নিজের স্মৃতিচারণায় জয় গোস্বামী জানান, ছোটবেলা থেকেই বাবার উৎসাহে তিনি খবরের কাগজ পড়তেন। দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো মুখ্যমন্ত্রী তিনি খুব কমই দেখেছেন বলেও জানান। সেই প্রসঙ্গে তিনি নন্দীগ্রামের আন্দোলনের কথাও স্মরণ করেন।
এদিন ধরনা মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের একাধিক নেতা-মন্ত্রীও। তাঁদের মধ্যে ছিলেন শশী পাঁজা, সুব্রত বক্সি, ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অরূপ বিশ্বাস, দোলা সেন, মালা রায়, শতাব্দী রায় ও জুন মালিয়া। উপস্থিত ছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি মঞ্চে বক্তব্য রাখেন। তবে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, তিনি নিজে আগামীকাল বক্তব্য রাখবেন। তৃণমূল সূত্রে খবর, শনিবারও ধর্মতলায় এই ধরনা কর্মসূচি চলবে।


