রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই নতুন সরকার বারবার দাবি করে আসছে যে, তারা বাংলায় স্বচ্ছ এবং শিল্পবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর। সেই লক্ষ্য পূরণে দেশের অন্যতম শীর্ষ বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীগুলির সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর একের পর এক বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। শিল্পপতিরা এ রাজ্যে বিনিয়োগে উদ্যোগী হলে রাজ্যে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ব্যাপক কর্মসংস্থান যে তৈরি হবে তা বলাই বাহুল্য। রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে যাবে, যা বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
শনিবার কলকাতা বিমানবন্দরে প্রায় ৩০ মিনিট ধরে চলে এই বৈঠক। পরে সামাজিক মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী জানান, শিল্প বিনিয়োগ, আধুনিক পরিকাঠামো নির্মাণ এবং যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়গুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তাঁর কথায়, পশ্চিমবঙ্গকে শিল্প ও বিনিয়োগের অন্যতম গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ।
এর আগে নবান্নে আদানি গোষ্ঠীর কর্ণধার গৌতম আদানির পুত্র করণ আদানির সঙ্গে বৈঠকও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্রের দাবি, বিদ্যুৎ, লজিস্টিক্স, সড়ক পরিকাঠামো এবং নতুন প্রকল্পে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে সেখানে আলোচনা হয়েছে।
রাজ্যের শিল্প পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। সেই আবহে দেশের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠীগুলির সঙ্গে সরকারের ধারাবাহিক বৈঠককে ইতিবাচক বার্তা হিসেবেই দেখছেন শিল্পমহলের একাংশ। যদিও বিনিয়োগের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে প্রকল্প ঘোষণার পরই, তবুও সাম্প্রতিক এই তৎপরতা বাংলার শিল্প মানচিত্রে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।


